

শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা: কৃষির উন্নয়নকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, কৃষির উন্নতি হলে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের মেরুদণ্ড শক্ত হবে, আর সেই শক্ত ভিত্তির ওপরই দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য ও কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুইদিন হয়েছে, তবে কৃষির সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় তিন দশকের। এসময়, নিজেকে একজন অভিজ্ঞ কৃষক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাছে ভাতে বাঙালি শুধু একটি প্রবাদ নয়, এটি হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। আগে কৃষি খাতকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে দেখা হলেও এখন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও কার্যক্রমকে সমন্বিত করা হয়েছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যে খাতকে আমি মনেপ্রাণে ভালোবাসি, সেই খাতের দায়িত্বই আমাকে দেওয়া হয়েছে। তবে এ দায়িত্ব পালনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, শুধু মন্ত্রীর দপ্তরে বসে থেকে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; কার্যকর সমাধানের জন্য সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে হবে।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বাস্তব চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একজন মন্ত্রীর পক্ষে সরাসরি কৃষকের জমিতে গিয়ে মাটির পিএইচ মাত্রা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে। মাটির পিএইচ লেভেল ৬.৫ এর নিচে বা উপরে হলে সঠিক উৎপাদন পাওয়া কঠিন, শুধু সার প্রয়োগে ফল মিলবে না। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি মাঠে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে কিছু খাতে উৎপাদন সংকটের আশঙ্কা রয়েছে এবং সব ফসল উৎপাদন চাইলেই বাড়ানো যাবে না। তাই পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং সমন্বিত কার্যক্রম ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হলে কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে কাজ করতেই হবে। কৃষির উন্নয়নই হবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষি শক্তিশালী হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, আর গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হলে জাতীয় অর্থনীতিও স্থায়ী ভিত্তি পাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।
এসময়, সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য ও কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক ও কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

