ঢাকা
৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৩৩
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৬, ২০২৬
আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০২৬
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৬, ২০২৬

কুমিল্লায় তীব্র শীতে দরিদ্র মানুষের স্বস্তির ঠিকানা হয়ে উঠেছে ফুটপাত

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা: গত কয়েকদিন ধরে কুমিল্লায় শীতের প্রকোপ যেন হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হাড়কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে সমাজের খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষগুলো। যাঁরা প্রতিদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, তাঁদের কাছে শীত মানেই বাড়তি কষ্ট, বাড়তি দুশ্চিন্তা। এই সমস্ত দরিদ্র নিম্মবিত্ত মানুষেরা শীত নিবারণ করার জন্য ছুটছেন স্বস্তির ঠিকানা হিসেবে কুমিল্লা নগরীর ফুটপাতের দোকান গুলোতে। টাকা কম কিন্ত শীত কিছুটা হলেও নিবারণ হবে এজন্য স্বল্প আয়ের মানুষ ছুটে চলছে ফুটপাতে। ফলে জমে উঠেছে রাজপথ দখল করে বসা ফুটপাতের গরম কাপড় বিক্রি করা দোকান গুলোতে। ক্রেতা বিক্রেতাদের পদচারনায় মুখরিত এখন এ সকল রাস্তার পাশের দোকান গুলো।

শুধু নিজেরাই নন এই তীব্র শীতে শীতবস্ত্রের অভাবে তাঁদের পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমন বাস্তবতায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে কুমিল্লা নগরীর ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলো।

মঙ্গলবার কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ ফুটপাত থেকে নিজেদের ও সন্তানদের জন্য শীতের পোশাক কিনছেন। ফুটপাতে সাজানো দোকানগুলোতে হুডি, জ্যাকেট, কানটুপি, মাফলার, মোজা, শিশুদের শীতের পোশাক এমনকি কম্বলও পাওয়া যাচ্ছে তুলনামূলক অনেক কম দামে।

কান্দিরপাড়ের ফুটপাতের এক বিক্রেতা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “তীব্র শীত শুরু হওয়ার পর থেকেই বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের শীতের কাপড়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিকেলের তুলনায় রাতে ক্রেতার ভিড় আরও বেড়ে যায়।”তিনি আরও বলেন, বড় মার্কেটের তুলনায় কম দামে পণ্য দিতে পারায় সাধারণ মানুষ ফুটপাতেই বেশি ভরসা রাখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা বলেন, “আমার আয় খুব সীমিত। তার ওপর এবার কুমিল্লায় যে পরিমাণ শীত পড়ছে, পুরোনো জামাকাপড় দিয়ে আর চলা যাচ্ছে না। শীত মানেই বাচ্চাদের কাছে নতুন কাপড়ের আনন্দ। ওরা নতুন পোশাকের আবদার করে চাইলেই না করি কীভাবে?”

তিনি জানান, বড় মার্কেটে যেখানে একটি শীতের পোশাক কিনতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগে, সেখানে ফুটপাত থেকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় একই ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। “আমি নিজের জন্য একটি হুডি কিনেছি ৩০০ টাকায়। বড় মার্কেটে গেলে এর দাম এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পড়ত। তাই আমাদের মতো মানুষের জন্য ফুটপাতই সবচেয়ে ভালো জায়গা,”বললেন তিনি।

শীত যতই বাড়ছে, ততই কুমিল্লা শহরের ফুটপাতগুলো হয়ে উঠছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসার ঠিকানা। কম দামে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র কিনে অন্তত কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন তাঁরা। শীতের এই মৌসুমে ফুটপাতের এই বেচাকেনা যেন নগরজীবনের এক বাস্তব ও মানবিক চিত্র হয়ে উঠেছে।

শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে জানতে চাইলে নাটাব কুমিল্লার সভাপতি ডা. গোলাম শাহজাহান বলেন, সমাজের বিত্তবানদের উচিত অসহায় ও দরিদ্র শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা চাইতেও পারে না, আবার শীতবস্ত্র ক্রয় করার সামর্থও নেই। এমন মানুষদের খোঁজে তাদেরকে শীতবস্ত্র দেওয়া উচিত। নগরীর আনাচে কানাচে খোলা আকাশের নিচে অনেকেই একটি চটের ব্যাগ গায়ে দিয়ে রাত্রী যাপন করছে। কিন্তু তাদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না। নগরীর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গুলোর উচিত এখনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +880 2-8878026, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram