ঢাকা
৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১:৫৫
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬

এপস্টেইনের সঙ্গে জোহরান মামদানির শৈশবের ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে জোহরান মামদানির শৈশবের ছবির সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের একটি ছবিকে বিভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। তবে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং ও গবেষণা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ২ ফেব্রুয়ারি একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘পেডোফাইল Epstein যে শিশুটির পেছনে দাড়িয়েছে, বলেন তো সে শিশুটি কে??? ধারণা করা হচ্ছে ছেলেটি Epstein এর অবৈধ সন্তান…. আপনি কিন্তু ফেইন্ট হয়ে যাবেন, বলতে না পারলে…।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিটিতে বাম থেকে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী এবং বর্তমানে যৌন পাচারের অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল, আমেরিকান শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এডওয়ার্ড এপস্টেইন, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, ই-কমার্স সাইট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে দেখা যায়। তাদের সামনে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিরা নায়ার এবং তার সন্তান নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে দেখা যায়।

ফেসবুকের আরেকটি প্রোফাইল থেকেও ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘পেডোফাইল Epstein যে শিশুটির পেছনে দাড়িয়েছে, বলেন তো সে শিশুটি কে??? ধারনা করা হচ্ছে ছেলেটি Epstein এর অবৈধ সন্তান…. কিছুদিন আগে তারে অনেকেই নিউ ইয়র্কের খলিফা বানিয়ে ফেলেছেন! হায়রে আবেগী মুসলমান.!।’

এছাড়াও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও ছবিটি পোস্ট করতে দেখা যায় ফেসবুকে। ক্যাপশনে বলা হয়, ‘এপস্টেইনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি কে জানেন? জোহরান মামদানী। ছবিটা রিয়েল নেটে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। এই মামদানির সাথে জামাতের ঢাকার এক নেতার খুব ভালো সম্পর্কে শুনলাম, সিউর না যদিও। আসলেই খেলা যে চলছে কোন লেভেলে।’

ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে এপস্টেইন ফাইলের একটি মেইলের ছবি পাওয়া যায়। মেইলটি পাঠানোর তারিখ হিসেবে ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর উল্লিখিত রয়েছে। মেইলটি পাঠিয়েছেন মার্কিন বিনোদন প্রচারক পেগি সিগাল। মেইলের প্রাপক জেফরি এডওয়ার্ড এপস্টেইনের জিমেইল আইডি জিভ্যাকেশন-এর অ্যাকাউন্ট। মেইলটির প্রথম অংশে বলা হয়, ‘এইমাত্র গিসলাইনের টাউনহাউস থেকে বের হলাম… সিনেমার আফটার পার্টি ছিল। বিল ক্লিনটন এবং জেফ বেজোস সেখানে ছিলেন… জিন পিগোজি, পরিচালক মিরা নায়ার… আরও অনেকে।’ মেইলটিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে থাকা বিল গেটস ছাড়া বাকি ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়।

ছবিতে থাকা মিরা নায়ার এবং জোহরান মামদানির ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ২০০৪ সালে প্রকাশিত একটি ছবি পাওয়া যায়। সে ছবিতে মিরা নায়ার এবং জোহরান মামদানিকে ভিন্ন ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তবে তাদের দুজনের পোশাক, ব্যাগ, ওড়নার রং সবকিছুই ছড়িয়ে পড়া ছবিটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অধিকতর যাচাইয়ে গুগল জেমিনির এআই শনাক্তকরণ টুল ‘সিন্থ-আইডি (SynthID) ব্যবহার করে ডিসমিসল্যাব। ছবিটি দিয়ে সেটি এআই দিয়ে তৈরি কি না জানতে চাইলে জেমিনির সিন্থ-আইডি ফিচার জানায়, ছবিটির বেশিরভাগ অথবা সম্পূর্ণ অংশই গুগল এআই ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে।

বিস্তারিত যাচাই করতে ছবিটি গুগলের ‘সিন্থ-আইডি’ প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশেষায়িত শনাক্তকরণ টুলেও পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে টুলের শনাক্তকরণের কনফিডেন্স লেভেল ছিল ‘খুবই উচ্চ’।

ফলাফলের হিটম্যাপে ছবিটির সিংহভাগ অংশকেই নীল রঙের গ্রিড দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিন্থ-আইডির পরিভাষায় যার মানে হলো, ছবিগুলোর ওই নির্দিষ্ট অংশগুলো গুগল এআই টুলস ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে তৈরি।

এছাড়া, কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। অর্থাৎ, জোহরান মামদানির শৈশবের ছবির সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের ছড়িয়ে পড়া ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ৩০ লাখের বেশি নতুন নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +880 2-8878026, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram