

আবু হেনা সাকিল, রাবি প্রতিনিধি: আজ শুক্রবার সারাদেশে সংঘটিত ভূমিকম্পে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় ৬৩ বছর পুরোনো শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের একটি অংশে হেলে পড়া ও দেয়ালে ফাটল দেখা যায়। ফলে হলটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে অস্থায়ীভাবে খালি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এক জরুরি বৈঠকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে হলটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও ভূমিকম্পের ধাক্কায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। “জরুরি ভিত্তিতে নতুন নির্মিত ১০ তলা হলের দুইটি ব্লকে শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
তিনি জানান, নতুন হলের বেশিরভাগ ব্লক এখনো সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়। তবে ব্লক দুইটাতে ২–৪ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংযোগ, পানি-বিদ্যুৎসহ মৌলিক সুবিধা দিয়ে বসবাসযোগ্য করে তোলা হবে। “প্রতি ব্লকে রয়েছে ৯০টি রুম; প্রতিটিতে দুইটি সিট। জরুরি ভিত্তিতে ২ টা ব্লকে মোট ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে আজই অস্থায়ী এটাসমেন্ট দেওয়া হবে। তারা চাইলে আজকেই সেখানে উঠতে পারবে।”
যেসব শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে উঠতে অনিচ্ছুক, তারা সাময়িকভাবে বন্ধুদের হলে বা মেসে, আত্মীয়ের বাসায় থাকতে পারবেন। কেউ চাইলে হলের নিরাপদ এলাকায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করতেও পারবেন বলে জানান প্রভোস্ট।
এ বিষয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ! প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম যাতে শিক্ষার্থীদের আজই নতুন হলের ১০ তলা ভবনে স্থানান্তর করা হয়। শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থীরা চাইলে আজই সেখানে উঠতে পারবে। দাবি মানায় আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
হলের আবাসিক ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর মইনুর ইসলাম বলেন, যারা খুব বেশি ভয় পাচ্ছে তারা হয়তো কালকের মধ্যে ওঠে যাবে। তবে যাদের পরীক্ষা চলতেছে তারা হয়তো আপাতত কিছু দিন হলের সেভ জুনে অবস্থান করবে। কারণ ওখানে এখনো পড়ালেখার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয় নি। নির্মাণাধীন ময়লা আবর্জনা, পড়ালেখার জন্য নেয় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। সুতরাং আপাতত সবাই হয়তো নতুন হলে স্থানান্তর হবে না।
এর আগে সকালে ভূমিকম্পের ফলে একটি ব্লক হেলে পড়া ও ব্যাপক ফাটল দেখা যায় হলটিতে। শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে মানববন্ধন শুরু করে। পরে রাকসুর প্রতিনিধিগণ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আল্টিমেটাম দিলে সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

