

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শেরে বাংলা ফজলুল হক হল ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে সারাদেশে অনুভূত ভূমিকম্পে এ ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্পের সময় হলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসে।
শেরে বাংলা হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) রানা হোসাইন বলেন, শেরে বাংলা হল নিয়ে বিভিন্ন টেকনিক্যাল টিম, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ঝুঁকির বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। প্রতিটি মুহূর্ত আমরা উদ্বেগের মধ্যে কাটাই। আজকের ভূমিকম্পে ভবন হেলে পড়া প্রমাণ করে—এখানে আর থাকা নিরাপদ নয়। দ্রুত আমাদের স্থানান্তরই একমাত্র সমাধান।
আবাসিক শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, ভূমিকম্পে হলের এক পাশে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে সংস্কার করা স্থানগুলোও আবার ফেটে গেছে। প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী এখন জীবনঝুঁকির মধ্যে। বহুদিন ধরেই হলটি অবাসযোগ্য, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই আজ আমাদের আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, আজকের পরিদর্শনে দেখা যায়, হলের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তিনতলা ঘুরে দেখলাম—অনেক জায়গায় অংশ খসে পড়েছে, নতুন ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। বুয়েট বা রুয়েটের বিশেষজ্ঞদের এনে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের রি-অ্যালোকেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পের পর আমরা পরিদর্শনে গিয়ে অসংখ্য নতুন ফাটল দেখতে পেয়েছি। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। জুম্মার নামাজের পর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেব।
রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “জুম্মার পর যদি কর্তৃপক্ষ স্থানান্তর নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না দেয়, তাহলে আমরা নিজেরাই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়াতে উদ্যোগ নেব। আপাতত হলে ভেতরে থাকা ঠিক নয়—কারণ ভবনটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে নির্মিত শেরে বাংলা ফজলুল হক হল রাবির প্রাচীনতম ভবনগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অবাসযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন।

