

আবু হেনা সাকিল, রাবি প্রতিনিধি: জুলাই আন্দোলনে হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণায় উল্লাস প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) প্রতিনিধিরা।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪ টাই রাকসু ভবনের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর, জোহা চত্বরসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন তারা।
এ সময় রাবি শাখা ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, পিলখানা, শাপলা চত্বরের ঘটনা, পর পর তিনটা অবৈধ নির্বাচন, আবরার ফাহাদ, ১৮ এর কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক চায় আন্দোলন ও সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ড সবগুলোই কিন্তু তার একক নির্দেশে হয়েছে। সেখান থেকে আমরা এই রায়ে অনেক বেশি উৎসাহিত।
তিনি আরও বলেন, দেখেছি যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ জন শিক্ষক এই রায়ে অসন্তুষ্টি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাবির কয়েকজন শিক্ষকও রয়েছেন। তাদের এই ধরনের আচরণের প্রতি আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এবং রাবি শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ ফ্যাস্টিটের দোসরদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলুন।
রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আজকে খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা হয়েছে তাতে আমরা খুশি। এখন দ্রুত এই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। এই রায় বাস্তবায়ন হলে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত, শহীদ পরিবারগুলো সর্বোপরি বাংলাদেশের সকল জনগণের জন্য বড় একটা অর্জন হবে। পাশাপাশি এই রায় বাংলাদেশে একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।
রাকসু'র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ১৭ বছরের জমানো ক্ষত আঘাতের রায় আজকে আসছে। আবরার ফাহাদ, বিডিআর হত্যাকান্ড, শাহবাগ কায়েম করা এবং সর্বশেষ জুলাই হত্যাকান্ড এগুলা এক একটা ক্ষত যার রায় আজ এসেছে। ১৬ কোটি মানুষের এখন একটাই ডিসিশন তা শেখ হাসিনার ফাঁসি। আমার ব্যাক্তিগত কথা বল্লে আমার মতো শতশত পরিবার আছে যাদের নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা চাই অনতিবিলম্বে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে এনে তার ফাঁসি কার্যকর করা হোক।
এসময় রাকসু'র ভিপি, জিএসসহ অন্য প্রতিনিধিরা নিজ হাতে শিক্ষার্থীদের মিষ্টি খাইয়ে দেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীরাও হাসিমুখে মিষ্টি খান।

