

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের কালিয়ায় মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় দিনমজুর মানসুর মোল্যাকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত হাসিব (২২)। তাদের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে। ঘটনার পর থেকে খুনি হাসিব পলাতক ছিল। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়া থানায় গিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। হাসিব কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত হাসিব মোল্যা থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ হত্যা ঘটনায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় গত শুক্রবার নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) কাসেদ মোল্যার সঙ্গে তার বংশীয় হাসিব মোল্যার বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হাসিব ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যাকে কিল-ঘুষি মারেন।
এরপর শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদততলা ত্রি-মোহনা মোড়ের দোকানে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী মেম্বার কাসেদের চাচাতো ভাই মানসুর ও নূর ইসলাম অভিযুক্ত হাসিবের কাছে জানতে চান-কেন কাসেদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে? এ সময় ধারালো ছুরি বের করে হাসিব ভুক্তভোগী মানসুর ও নূর ইসলামকে কোপাতে শুরু করে। গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেয়ার পথে জামরিলডাঙ্গা ফুটবল মাঠের কাছে গেলে মারা যান। আহত নূর ইসলাম চিকিৎসাধীন আছেন। নিহত মানসুর কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে।
এ ব্যাপারে ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যা বলেন, হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদকসেবন করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এরপর ছুরিকাঘাতে মানসুর ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা জানায়, হাসিবের সাথে তাদের কোন শত্রুতা ছিল না। এলাকাবাসী খুনি হাসিবের বিচার দাবি করেছেন।

