

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে কীটতত্ত্ব জরিপ করে ৩৬ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শহরের এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বকে চিহ্নিত করা হয়েছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে।
বুধবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু মশক নিধন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডাঃ এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী।
সিভিল সার্জন বলেন, শহরের ১৫০টি বাড়িতে জরিপ চালানো হয়। এরমধ্যে ৫৪টি বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ শহরের বাড়িতে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব হচ্ছে ৩৬ ব্রুটো ইনডেক্স (এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচককে ব্রুটো ইনডেক্স বলা হয়)। এটি উদ্বেগজনক ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। জেলা প্রশাসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় এডিস মশা নির্মূল ও জনসচেতনতা তৈরিতে ৮টি দল গঠন করে দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে, এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব ২০ ব্রুটো ইনডেক্সের বেশি হলেই ওই এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি থাকে এবং মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে এই ঘনত্ব ৩৬ ব্রুটো ইনডেক্স। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মসজিদপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, নিউ ইসলামপুর, উদয় সংঘের মোড়, চরজোতপ্রতাপসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমন সব চেয়ে বেশি।
জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী বলেন, যেসব এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি সে সব এলাকায় এরইমধ্যে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। এটি আরও বেগবান করতে পৌর এলাকায় ৮ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের সদস্যরা মশক নিধন অভিযান তদরকি করবেন। আমরা আশা করছি শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুর অর রশীদসহ অন্যরা।

