

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা: কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিবন্ধন করা প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। নিবন্ধিত ১ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ফরম পূরণ করেছে ৯৫ হাজার ৮৯ জন। ফলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়েছে বা অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষা বোর্ড এই সংখ্যাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেন, দেশের দুর্বল অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থী পরিবারকে সহায়তা করতে আয়-রোজগারে যুক্ত হচ্ছে। এ কারণেই নিবন্ধনের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৫ হাজার ৮৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৭ হাজার ৩২৪ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৭৬৫ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছাত্রের তুলনায় ২০ হাজার ১৬৫ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষার প্রথম দিন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিনসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বোর্ড সূত্র জানায়, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর—এই ছয় জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
বিভাগভিত্তিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৪৩ হাজার ৪৯৪ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ২৮ হাজার ৪৯৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৩ হাজার ৯৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী কুমিল্লা জেলায়। জেলার ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৮টি কেন্দ্রে ৩৩ হাজার ৬১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। নোয়াখালীতে ১৭ হাজার ৯০৫ জন, চাঁদপুরে ১৩ হাজার ৭৯৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ হাজার ৪৮ জন, লক্ষ্মীপুরে ৯ হাজার ৮০ জন এবং সবচেয়ে কম ফেনী জেলায় ৪২টি প্রতিষ্ঠানের ১১টি কেন্দ্রে ৮ হাজার ৬৪৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারির জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বোর্ড থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে মোমবাতি, চার্জলাইট এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেন, ‘২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক ও ভিজিল্যান্স টিম কঠোর নজরদারিতে থাকবে। কোথাও কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

