

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার গোবরায় মানসিক প্রতিবন্ধীকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনে করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে খুনিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, খুনের শিকার হতভাগ্য আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান।
তার অসুস্থতার কারণ হিসেবে জানতে পারেন নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস, হৃদয় বিশ্বাস, রবিন বিশ্বাসের ছেলে জউগ্গে বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে আটক করে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাতভর মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। মৃত নিশ্চিত হয়ে অপরাধীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকা প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারের লোকজন জানান, চোর ভেবে প্রসেনজিৎ চিৎকার দিলে লোকজন এসে আনোয়ারকে মারধর করে। অনেক লোক মারধর করায় সে জ্ঞান হারায়। এ সময় তারা সকলে আনোয়ার মারা গেছে ভেবে পালিয়ে যায়। আনোয়ারের পরিবারের দাবি খুনিরা গাজাখোর সন্ত্রাসী। তারা আনোয়ারের কাছে থাকা টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর খুন করার উদ্দেশ্যে মারধর করে। এরপর সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অপরাধীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে ক্ষ্যান্ত হয়। এটা নিছক কোন দুর্ঘটনা নয়, এটা রীতিমত খুন। তারা আনোয়ারের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু জানান, আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং কয়েকজন অজ্ঞাত আসামি দিয়ে আগেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিরা হলেন, গোবরা মালোপাড়ার নিভাষ বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাদি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাস বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস। তিনি আরোও বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

