

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরের তিনটি স্থানে এসব ভাঙন ও একাধিক স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র ভাঙনের ফলে নদের তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ও বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে নদের ডানতীর ব্লক ডাম্পিং ও পিচিং এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছহাট বাজারের ভাটি পর্যন্ত এলাকার কাজ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়। ওই প্রকল্পে কয়েক দফায় ভাঙন দেখা দিলে জরুরী ভিত্তিতে তা মেরামত করা হয়েছিল।
সম্প্রতি উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় দুটি স্থানে ভাঙন এবং একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। হঠাৎ বুধবার সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্তে সড়কটারী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ মিটার জায়গার ব্লকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী মেরামতের ব্যবস্থা শুরু করেছে বলা জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটারী মসজিদ সংলগ্ন বাধের প্রায় ১০ মিটার জায়গার ব্লক ধসে পড়ে যাচ্ছে। বাঁধের ওই এলাকাতে প্রায় আধা কিলোমিটারের মধ্যে ১২ মিটার ও ৬ মিটার আরও দুটি স্থানে পিচিং ব্লক ধসে গেছে। এছাড়াও একাধিক স্থানে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে।ব্লক ধসে যাওয়া ও ফাটলের ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে ওই এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছেন নদের তীরবর্তী মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় ধসের ঘটনা ঘটলেও তা স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্কে থাকতে হয় ভাঙন কবলিত মানুষদের।
কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা ফুল বাবু, মতিয়ার রহমান, খতিব উদ্দিন, মঞ্জু মিয়াসহ অনেকে বলেন, ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর আমরা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বারবার ধসের ঘটনায় আমরা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ব।
একই এলাকার নুর ছলিমা, নুরজাহান বেগম ও স্বপ্না বেগম বলেন, শুষ্ক মৌসম কোন রকমে পার হলেও বর্ষা মৌসুম এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি।এবারও বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.রাকিবুল হাসান জানান, ওই এলাকারসমূহ জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য ৬ হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ডাম্পিং এর কাজ শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাসমূহের স্থায়ী মেরামতের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। বরাদ্দ পেলে স্থায়ীভাবে মেরামত করা হবে বলে জানান তিনি।

