

মোঃ আনোয়ার হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের চরলাপাং এলাকায় আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে মেঘনা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও গুলি চালিয়েছে বালু সন্ত্রাসী সাখাওয়াত হোসেনের লোকজন। এই ঘটনায় ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত বালু মহাল লীজ নেয়া সামিউল টেড্রার্সের লোকজন চরলাপাং মৌজার মেঘনা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদী ভাঙনের ফলে ফসলী জমি বিলীন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আজ সকালে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে বাধা দিতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বালু উত্তোলনে জড়িত সামিউল টেড্রার্সের দুর্বৃত্তরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ নূরুল আমীন (৪০), রূপা মিয়া (৪৫), স্বপন মিয়া (৫০), ইব্রাহীম খলিল (৩০), জুলহাস মিয়া (৫০), সাকাল মিয়া (৪০) এবং সিয়াম আহমেদ (১৬)-কে নবীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্বৃত্তদের সাথে সংঘর্ষ ও হামলায় ৭ জন গুলিবিদ্ধ এবং নারীসহ আরও অন্তত ১৫ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ভাবে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ- প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে দীর্ঘদিন যাবত মেঘনা নদীর পাড় কাটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকিতে পরায় তারা প্রতিবাদ করছিলেন। সেখানে গুলি চালানো হয়।
অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আইন-শৃঙ্খলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত এমপি বলেন, সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

