

জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শ্রেণীকক্ষে শুরু হয়েছিল ‘The Economist Educational Foundation’ এর ৬ টি ৯০ মিনিটের আন্তর্জাতিক মানের lesson plan-কোর্স যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিখেছিল ও পরিকল্পনা করেছিল নেতৃত্বের ও পরিবর্তনের হাওয়া নিয়ে আসতে সমাজে ও চিন্তা ধারায়। একটি ছোট প্রকল্প — “Empowering Safety for Girls” আজ এটি এক অনুপ্রেরণাদায়ক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যা মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বে জাগিয়ে তুলছে।
এই প্রকল্পটি সম্প্রতি The Economist Educational Foundation ও Rolex কর্তৃক প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ Leadership for Change Prize 2024 অর্জন করেছে।
প্রকল্পটির শুরু ছিল এক সহজ কিন্তু শক্তিশালী উদ্দেশ্যে — মেয়েদের আত্মরক্ষা শেখানো, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিজের কথা সাহসের সঙ্গে বলার শিক্ষা দেওয়া। শ্রেণিকক্ষ ওয়ার্কশপ, সচেতনতা কার্যক্রম ও গল্প বলা, কারাতে প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিখেছে কিভাবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে জীবনের বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
বিশ্বের ৬ টি মহাদেশ , ২৩ টি দেশের ৩৫৬ টি প্রতিষ্ঠানের হাজারো প্রকল্পের মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ - এর দলটি নির্বাচিত হয়েছিল তাদের সৃজনশীল ও মানবিক উদ্যোগের জন্য, যেখানে শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন একসাথে যুক্ত হয়েছে। বিজয়ী দলে ছিল শিক্ষার্থী জিম এবং সাবাবা যেখানে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রভাষক সাফিয়া আনসারী ( ইংরেজি বিভাগ )।
ছাত্রী সাবাবা বলেন,“প্রথমে আমি খুব লাজুক ছিলাম, নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল না। কিন্তু এই প্রকল্প আমাকে শিখিয়েছে, আমার কণ্ঠেরও মূল্য আছে। আমি নিজেকে এবং অন্যদের রক্ষা করতে পারি — সত্যের পক্ষে কথা বলো।”
শিক্ষার্থী জিম যোগ করেন, “এই প্রকল্প আমাকে বুঝিয়েছে, সাহস মানে ঝগড়া করা নয়, — সাহস মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকা। কারাতে মানেই শুধুই মারামারি নয়- মনোযোগ নিবদ্ধ ও শৃঙ্খল।”
প্রকল্পটির সমন্বয়কারী ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাফিয়া আনসারি বলেন, “Empowering Safety for Girls প্রকল্পটি কেবল আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, সচেতনতা ও নেতৃত্ব গঠনের এক যাত্রা। আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো, মেয়েরা এই প্রকল্পটিকে এক সত্যিকারের সচেতনতার আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। ”
শুরুতে ১৫ জন, এরপর ৩০, ধীরে ধীরে ৭২ জন মেয়ে ও ৩৫ জন ছেলে পৃথকভাবে এই কারাতের ট্রেনিং এ অংশ নেয়। আমরা এম.এ. রশিদ মেমোরিয়াল একাডেমী-তে ২০০ জনের মতো বাচ্চাকে কারাতে বা আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কর্মশালা করিয়েছি। জামালপুর কারাতে একাডেমী , ময়মনসিংহ ,সিরাজগঞ্জ , ঢাকা বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছি এবং নিজেদের কারাতে ক্লাব শুরু করেছি। আমরা একটা সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি -আজ “Empowering Safety for Girls” শুধুমাত্র একটি প্রকল্প নয় — এটি এক আন্দোলন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুল ও সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে বার্তা: “প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী ও অপ্রতিরোধ্য হতে পারে।”
শুধু তাই নয় এই প্রকল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে ও এর জমকালো সমাপ্তি অনুষ্ঠান অলংকৃত করতে এগিয়ে এসেছে যুক্তরাজ্যের সনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘The Takeaway Site’, এটি একটি যুক্তরাজ্যের কোম্পানি যা দ্রুত বর্ধনশীল, বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হচ্ছে । আমরা ‘The Takeaway Site’ কে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। একসাথে আমরা এমন এক পৃথিবী গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ, শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসীভাবে ভবিষ্যৎকে নেতৃত্ব দেবে।

