

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান-এর নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স।
নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে, দুই দিনের সফরে গিয়ে অরবানের পক্ষে প্রচারণা চালান তিনি। তবে, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল তিসজা পার্টির কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ক্ষমতা হারান অরবান।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, অরবান একজন 'দারুণ মানুষ' এবং তিনি 'খুব ভালো কাজ' করেছেন। তার মতে, ইউরোপে খুব কম নেতাই আছেন যারা ব্রাসেলসের আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছেন, আর নি:সন্দেহে অরবান তাদের একজন।
যদিও অরবানের পরাজয়ে দু:খ প্রকাশ করেছেন ভ্যান্স, তবুও নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবেই কাজ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুপক্ষেরই ঘনিষ্ঠ। ৬২ বছর বয়সী ভিক্টর অরবানের এ পরাজয় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, তিসজা পার্টির নেতা পিটার মাজিয়ার, যিনি নির্বাচনে জয় পেয়েছেন, ভ্যান্সের এই হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হাঙ্গেরির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
তবে সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর একটি 'গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী' অংশীদার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা অন্য কেউ যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে প্রস্তুত আছেন।
নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন অরবান। এর মধ্যে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী তিন দলের নেতাদের বুধবার প্রেসিডেন্ট তামাশ শুইয়োক-এর সঙ্গে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
নতুন পার্লামেন্ট আহ্বান এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী মনোনয়নের দায়িত্ব রয়েছে প্রেসিডেন্ট শুইয়োকের ওপর, যা ১২ মে’র মধ্যে সম্পন্ন করার কথা। তবে মাজিয়ার দ্রুত এ প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শুইয়োককে অরবান সরকারের 'পুতুল' বলেও সমালোচনা করেছেন।
মাজিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ৫ মে কিংবা তারও আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

