

আহমেদাবাদে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি জেতানোর মাত্র তিন মাসের মাথায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন ৩৫ বছর বয়সী সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। তাকে শুধু দলের অধিনায়কত্ব থেকেই সরিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং আসন্ন দল নির্বাচনী সভায় ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির স্কোয়াড থেকেও তার বাদ পড়ার জোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন এ তথ্য জানানো হয়। সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটপ্রেমীদের চমকে দিলেও, অজিত আগারকরের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচক কমিটির কঠোর ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে প্রবণতা, এটি তারই ধারাবাহিকতা।
মূলত সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে চরম ফর্মহীনতা এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন সুরিয়াকুমার। আইপিএলের সবশেষ আসরে ১৩ ইনিংসে তিনি মাত্র ১০টি ছক্কা হাঁকাতে পেরেছেন, যেখানে বাউন্ডারি ও স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে তরুণ ক্রিকেটাররা তাকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছেন। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও তিনি বড় রান পাচ্ছিলেন না; কেবল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তিনটি হাফসেঞ্চুরি করে কিছুটা ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন। তবে মূল বিশ্বকাপেও তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স তেমন আহামরি কিছু ছিল না।
ভারতের ক্রিকেটে ফর্ম হারালে যে সিনিয়র বা মহাতারকাদেরও ছাড় দেওয়া হয় না, তার প্রমাণ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ হার এবং ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর রোহিত স্পষ্ট বার্তা পেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান।
অন্যদিকে বিরাট কোহলিও ভারতের ইংল্যান্ড সফরের আগে অবসরের ঘোষণা দেন, যে সফরের টেস্ট সিরিজে শুভমন গিলকে প্রথমবারের মতো অধিনায়ক করা হয়। এমনকি খোদ শুভমন গিলও যখন ফর্ম হারিয়েছিলেন, তখন সহ-অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে তাকে বাদ পড়তে হয়েছিল এবং তার জায়গায় দলে এসেছিলেন ইশান কিষাণ।
যেহেতু আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আরও দুই বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হবে, তাই সুরিয়াকুমারের বয়স বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে একদম নতুন করে পথচলা শুরু করতে চায় নির্বাচক কমিটি। এখনই সুরিয়াকুমারকে সরিয়ে দেওয়া হলে নতুন অধিনায়ক দল গুছিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন। বিশেষ করে ২০২৮ সালে যখন এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরছে, তখন ভারতের সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের এক অনন্য সুযোগ থাকবে।
তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে সুরিয়াকুমারের পর যদি শুভমন গিলের কাঁধেই টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব তুলে দিতে পারে অজিত আগারকরের বর্তমান নির্বাচক কমিটি। এর পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণও রয়েছে। ২০২৬ সালের আইপিএলে ১৬৩.০২ স্ট্রাইক রেটে ৭৩২ রান করে গিল নিজের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং টেমপ্লেট নতুন করে চিনিয়েছেন। এছাড়া গিলের বয়স এখন মাঝ-বিশোর্ধ হওয়ায় তিনি দলকে দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আর সেটি হলে রোহিত শর্মার পর ভারত আবারও তিন ফরম্যাটেই একক অধিনায়কের অধীনে খেলার স্থিতিশীলতা পাবে।
আবার অন্নদিকে নেতৃত্বের এই দৌড়ে ক্রিকেট মহলে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার শ্রেয়স আয়ার। অবশ্য পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় দীর্ঘ তিন বছর ধরে জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের স্কোয়াডের বাইরে রয়েছেন এই ক্রিকেটার।
অথচ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের আগে যখন সুরিয়াকুমার যাদবকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করা হয়েছিল, তখন রোহিতের ডেপুটি হার্দিক পান্ডিয়াই ছিলেন এই পদের মূল দাবিদার। কিন্তু ইনজুরিপ্রবণ হার্দিক সব ম্যাচে উপলব্ধ থাকবেন কি না নির্বাচকদের সেই আশঙ্কাই কপাল খুলে দিয়েছিল সুরিয়াকুমারের।

