ঢাকা
১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ১০:৪৮
প্রকাশিত : জুন ১, ২০২৬
আপডেট: জুন ১, ২০২৬
প্রকাশিত : জুন ১, ২০২৬

চীনের অভিযোগ নাকচ করে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বললেন, 'চীন দ্রুত অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে'

জাপান আবার সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, চীনের এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। তিনি বলছেন, জাপান নয়, বরং চীনের দ্রুত সামরিক সম্প্রসারণ এবং স্বচ্ছতার অভাবই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিঙ্গাপুরে কোইজুমি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিটি দেশই তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক করছে, জাপানও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, 'জাপানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র বা কৌশলগত বোমারু বিমান নেই। তবুও আমাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।'

তবে জাপান-চীনের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে শুরু হয় গত সপ্তাহে। এক বিবৃতিতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন অভিযোগ করেন, জাপান আবারও সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে হাঁটছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান।

এর জবাবে কোইজুমি বলেন, চীন ধারাবাহিকভাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বিস্তার করছে, যা পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে বলে টোকিওর দাবি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাপান গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে আসছে। সর্বশেষ বাজেট ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনেরও বেশি, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করছে। পাশাপাশি অস্ত্র রফতানির নীতিতেও কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে।

অবশ্য, জাপান সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপ কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা শক্তিশালী করা।

তবে জাপানের এই সামরিক নীতি পরিবর্তন নিয়ে দেশটির ভেতরেই বিতর্ক রয়েছে। একদিকে অনেকে মনে করছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা জরুরি। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে জাপান যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে চীন ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়ে। যদিও বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেন তিনি। চীন সে সময় বলেছে, তাইওয়ান চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। জাপান যাতে কোনভাবেই নাক না গলায়। সানায়ে তাকাইচি এক বক্তব্যে মন্তব্য করেন, তাইওয়ানসহ সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে জাপান অস্তিত্ব সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে।

সেই ঘটনার পর আবার চীন-জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক বাক বিনিময় চলছে। তবে উত্তেজনা থাকলেও সংলাপের দরজা খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনায় জাপান সবসময় প্রস্তুত।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram