

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশকে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের উদ্দেশে বলেছেন, হরমুজে গিয়ে নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করুন।
মঙ্গলবার (৩১মার্চ) নিজস্ব সামাজিকমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ বার্তা দেন।
ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালী থেকে জেট জ্বালানি পেতে সমস্যায় পড়ছে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্য—তাদের জন্য তার দুটি পরামর্শ রয়েছে। প্রথমত, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি কেনে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, তারা যেন সাহস সঞ্চয় করে সরাসরি হরমুজ প্রণালীতে গিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিজেরাই সংগ্রহ করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ভবিষ্যতে এসব দেশকে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় নিজেরাই লড়তে শিখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো সহায়তায় এগিয়ে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ইরান এরই মধ্যে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখন অন্য দেশগুলোর উচিত নিজেদের জ্বালানি চাহিদা নিজেরাই পূরণ করা।
ট্রাম্পের সুরেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে মিত্রদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
হরমুজ প্রণালী সংকট মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিধ্বনি করে তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কাজ নয়।
হেগসেথ আরও বলেন, আমরা সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছি। এখন অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতিও ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের নৌবাহিনীরও ভূমিকা রাখা উচিত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন রুট এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে বারবার পরিবর্তন এসেছে—কখনো মিত্রদের সহায়তা চাওয়া, কখনো তা অস্বীকার করা, আবার কখনো তাদের ‘অবিশ্বস্ত’ বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই মিত্রদের নিজেদের উদ্যোগে প্রণালীটি পুনরায় চালু করার আহ্বান জানাচ্ছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই দাবি করেছেন, গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত জোটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি

