

আবু হেনা সাকিল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি হিসেবে রাবি'র এক শিক্ষকের টাঙানো ব্যানার খুলে ফেলেছেন রাকসু'র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ওই ব্যানারটি টাঙানো হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডের পাশে টাঙানো ব্যানারটি খোলার একটি ভিডিও রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন রাকসু'র জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক।
ব্যানার খোলার আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে করা এক পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের সেকশন ৫৫ (২) অনুযায়ী ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষককে দুপুর ২টার মধ্যে ব্যানার অপসারণের অনুরোধ জানান। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যানার না সরানোয় তিনি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেই সেটি অপসারণ করেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানার কিংবা রাজনৈতিক তৎপরতার কোনো চিহ্ন দেখা গেলে তিনি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট যে কাউকে প্রতিহত করার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি, রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো কিংবা শিক্ষক সমিতিকে রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা আইন ও প্রশাসনিক বিধির পরিপন্থী।
জিয়া পরিষদের কয়েকজন নেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, তারা শিক্ষক পরিচয়ের পাশাপাশি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় ব্যানার বা রাজনৈতিক প্রচার না চালানোর আহ্বান জানান।
এছাড়া পোস্টে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কোনো বেআইনি বা অযৌক্তিক দাবি করেননি।
একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও একটি অনুরোধ জানান রাকসু জিএস। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলতে পারে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষকদের পরিচয় যেন কেবল শিক্ষক হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্য রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও তার অবস্থান একই থাকবে। জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের পক্ষ থেকে কোনো দলীয় ব্যানার, মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মসূচি চোখে পড়েনি।
পোস্টের শেষাংশে রাকসু জিএস বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিলেও এর পেছনে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই ছাত্র রাজনীতির আগে শিক্ষক রাজনীতির বিরুদ্ধেই সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাকসু জিএসের ব্যানার খুলে ফেলাকে ঘৃণ্য কাজ বলে দাবি করেছেন জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার এই ঘৃণ্য কাজের ধিক্কার জানানো ছাড়া আমার আর কোনো ভাষা জানা নাই। দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ৪০ দিনও এখনো হয় নাই এবং তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হয়েছে জনাব তারেক রহমান। যার দিকে পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। যার আগমন ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সম্পূর্ণ জাতি এখন তার পানে তাকিয়ে মুখিয়ে আছে। তো তেমন একজন চেয়ারম্যান কে অভিনন্দন জানিয়ে আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জিয়া পরিষদের সভাপতি অভিনন্দন জানিয়েছি। তো এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো ক্ষতি হবে?
তিনি আরও বলেন, তার এই কাজের ধিক্কার জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এসব ছাত্র নামে কলঙ্ক। ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছে, লেখাপড়া বাদ দিয়ে। যারা মূলত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দল তারা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এই জাতীয়তাবাদী দলকে শেষ করতে চায়। তবে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চায় না। আমরা ১২ তারিখের পরে দেশ কোন দিকে যাবে সেটার দিকে তাকিয়ে আছি।
রাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, আমি মৌখিকভাবে কোন কিছুই জানিনা। পরে ফেসবুকে দেখলাম। কেউ যদি ব্যানার লাগায় আবার কেউ যদি সরায় সেক্ষেত্রে কারণ মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটছে কিনা এই জিনিসগুলো আমাকে জানতে হবে। যদি কোন কিছু নিয়মের ব্যত্যয় ঘটে সেটা আমরা অবশ্যই দেখবো, সেটা যেই হোক না কেন তার সাথে কথা বলবো।
উল্লেখ্য, এর আগে তারেক রহমানকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যানার টাঙান জিয়া পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার।

