

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ আবেদনপত্র পেশ করেন। আবেদনপত্রে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের মূল পদে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপাচার্যের মতামত জানতে চান এবং এ ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাসহ সার্বিক বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেন।
এদিকে দেশের একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য উপাচার্যকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় তিনি ফুলেল শুভেচ্ছাও জ্ঞাপন করেন।
নতুন উপাচার্য হতে পারেন যারা:
অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগের ফলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদটি শূন্য হতে যাচ্ছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন উপাচার্য নিয়োগকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, এ পদে নিয়োগের জন্য ছয়জন শিক্ষক আলোচনায় রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ঢাবির কলা অনুষদের ডিন ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। এছাড়াও ঢাবির বর্তমান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ভিসি হতে চান। তারা সবাই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। এদের মধ্যে সকলেই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে এবং বিভিন্ন সংগঠন পরিচালনায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
জানা গেছে, উল্লিখিত শিক্ষকদের মধ্যে প্রথম ৫ জন বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার আমলে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে সক্রিয় ভুমিকা রেখেছেন। শুধু তাই নয়, পেশাগত অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে এবং দেশ ও জনগণের পক্ষে লেখালেখির কারণে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। ক্লাসের পরিবর্তে কাউকে কাউকে আদালতের বারান্দায় দৌড়াতে হয়েছিল। এর মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে পত্রিকায় কলাম লেখার কারণে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি হারিয়েছিলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। তিনি জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল। সেসময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলো। তবে দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর আদালত তাকে চাকুরিতে যোগদানের আদেশ দিলেও তৎকালীন আওয়ামী দলকানা প্রশাসন যোগদান করতে দেননি। অত:পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আবারো চাকুরিতে যোগদান করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যোগ্যতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে একজনকে পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে চূড়ান্ত করা হতে পারে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

