

গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: তারাবিহ নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় নূরানী মাদ্রাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল। অবশেষে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ের পাশে মিললো তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের। শিশুটি ওই গ্রামের মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। নিহত রুবেল স্থানীয় সানকিসাইর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের ছাত্র। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) সকালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পরিবারে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) ইফতারের পর প্রতিদিনের ন্যায় প্রায় ৮টার দিকে রুবেল ঘর থেকে বের হয়ে যায় তারাবিহ নামাজ পড়তে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে এলাকাজুড়ে মাইকিং করেন।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাঁশঝাড়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে রুবেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশিরা। তাদের ডাক চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মৃত ও রক্তাক্ত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন ও নাকে মুখে রক্ত বের হচ্ছিল।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করলো। সে কী অপরাধ করেছিল। নিহত শিশু রুবেল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও নাকে মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।দেখা গেছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

