ঢাকা
প্রকাশিত : August 23, 2026
আপডেট: August 23, 2026
প্রকাশিত : August 23, 2026

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ দিলে প্রতিবেশীদের শত্রু ভাববে তেহরান

ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার মার্কিন অভিযানে যোগ দিলে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা এবং তাদের স্বার্থে আঘাত হানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

শনিবার (২২ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।

তিনি বলেন, আমরা পার্শ্ববর্তী সব দেশকে বলছি, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ না নেয়। অন্যথায়, আমরা তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে অর্থনৈতিক হুমকি আসার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া এল। এর আগে গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চলমান উত্তেজনার অংশ হিসেবে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটন এযাবৎকালের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ চালাতে যাচ্ছে।

ইরানের অর্থনীতি ধ্বংসের হুমকির পাশাপাশি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে যে কোনো ধরনের ‘সাহায্যের হাত’ বাড়িয়ে দেয়, তবে তাদেরও চরম অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। পরদিন একই সুরে মিলিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আপনারা হয় আমাদের পক্ষে, না হয় আমাদের বিপক্ষে।

সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোহসেন রেজাই জানান, ইরান মূলত তিন ধাপে তাদের কৌশল নির্ধারণ করেছে। যার শুরুতেই রয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা।

তিনি বলেন, প্রথমত আমরা আলোচনা করব। এরপর ভালো ভাষায় তাদের বোঝানোর চেষ্টা করব, যাতে তারা আমেরিকার পক্ষ ত্যাগ করে। কারণ আমরা যুদ্ধের বিস্তার চাই না।

তবে কোনো দেশ এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিলে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সময় দেওয়া হবে। এরপরও অবস্থান না বদলালে তৃতীয় ধাপে ইরান অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরে বিভাজন তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে বিক্ষোভ সৃষ্টি করে ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ১৭ জুন সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে’ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হলেও, তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

সংঘাতের অন্যতম বড় বিরোধের বিষয় হয়ে আছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বন্ধ করে দিলে তেল ও সারের মতো পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এরপর উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়।

তবে রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক যুদ্ধে শামিল হয়, তবে পারস্য উপসাগর থেকে তেল রফতানির বিকল্প পথগুলোতেও আঘাত হানবে তেহরান।

একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর ওয়াশিংটন ‘বহির্দেশীয় সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর কথা ইরান বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া ইউরোপের কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram