

মো. মোশাররফ হোসেন, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী মোমেনা বেগম (৩৮)-কেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে আনোয়ার হোসেন গোপনে বাড়িতে ফেরেন। গভীর রাতে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মাইকিং করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে তাঁর হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মোমেনা বেগমও হামলার শিকার হন। এতে তাঁর হাত গুরুতর জখম হয়। পরে খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে রোববার ভোরে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। বাড়ি ফেরার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ ও তাঁর লোকজন বাড়িতে হামলা চালান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর তিনি এলাকায় ছিলেন না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই সময় তাঁর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে স্বজনরা জানান।
এলাকাবাসীর কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিরোধ ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। ২০২৩ সালে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িতে হামলার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কী আইনগত ব্যবস্থা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
ঘটনার পর উত্তর পেন্নই এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

