ঢাকা
২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৮:০০
প্রকাশিত : মে ২০, ২০২৬
আপডেট: মে ২০, ২০২৬
প্রকাশিত : মে ২০, ২০২৬

আটঘরিয়ায় ১০৪ বছরের বৃদ্ধ পিতাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল সন্তান

আটঘরিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি: যে সন্তানকে দুই হাতে পরম মমতায় বড় করেছেন। নিজে না খেয়ে যে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, সেই সন্তানই নিজের ঘর থেকেই বের করে দিয়েছেন ১০৪ বছরের অসহায় জন্মদাতা পিতাকে।

এমন হৃদয়স্পর্শী ঘটনার স্বীকার বয়সের ভারে নুয়ে পড়া পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার তসীমউদ্দীন প্রামানিক।

জীবনের সবটুকু সময় পরিশ্রম আর ত্যাগে যে স্বপ্নের সংসার গড়েছিলেন, সেই সংসারই আজ তাকে করেছে আশ্রয়হীন। শেষ বয়সে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তসীমউদ্দীন।

ঠিক সেই সময় মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন মালিগাছা ইউনিয়নের খন্দকার পাড়ার গরিব রেজাউল ও তার স্ত্রী। নিজেদের ছোট্ট ঘরেই তারা আশ্রয় দিয়েছেন এই অসহায় বৃদ্ধকে।

মো: তসীমউদ্দীন প্রামানিক বলেন, তোমরা দয়া করে আমাকে বাঁচাও, ছাওয়াল আমার বলে তোমার যেন এই সীমানায় না দেখি। কথা বলতে বলতে তসীমউদ্দীর কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়ছিল বার বার।

তসীমউদ্দীন প্রামানিক কে আশ্রয়দাতা রেজাউলের স্ত্রী আকলিমা বলেন, সে মুরুব্বি তার যতটুকু সেবা যত্ন করার দরকার আমি করতেছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন পিতা তার পুরো জীবন সন্তানদের জন্য উৎসর্গ করেন, অথচ শেষ বয়সে এমন পরিণতি সত্যিই মর্মান্তিক। এই ছেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি।

অন্য প্রতিবেশী রোমজান আলী বলেন, যখন ভালো ছিল, বউ ছেলে পেলের কাছে ভালো ছিল, এখন বৃদ্ধ হইছে, ছেলে তারিয়ে দিছে, এই বয়সে সে এখন কোথায় যাবে।

স্থানীয় যুবক আকমল হোসেন বলেন, সরকারীভাবে ওনাকে যদি কোন সহায়তা দেওয়া হয় তাহলে ওনার বাঁকি জীবনটা ওনি ভালোভাবে কাটাতে পারবে। এছাড়া ওনার ছেলেকে আইনের আওতায় এনে ভরণপোষনের ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়।

অসহায় তসীমউদ্দীন প্রামানিকের বাড়ি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে ১ সন্তান নিয়েই ছিলো তার ছোট পরিবার। পারিবারিক ঝামেলায় ছেলে নয়ন তার পিতাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেন।

এই ব্যাপারে ছেলে নয়নের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় পাবনার উপপরিচালক মো: আবদুল কাদের বলেন, অসহায় পিতা, তসীমউদ্দীনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবিকতার এই গল্প একদিকে যেমন কষ্টের, তেমনি আবার রেজাউলের পরিবারের সহানুভূতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। বৃদ্ধ পিতা তসীমউদ্দীনের জীবনে যা ঘটেছে এটা যেন আর কারো জীবনে না হয় এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram