

জিহাদ রানা, বরিশাল ব্যুরো চীফ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পটুয়াখালী সফর করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তিনি বরিশাল এরিয়ার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই সমন্বয়ের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখা সম্ভব হবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতবিনিময়কালে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ধৈর্যশীল ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সামান্য অসতর্কতাও নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, দায়িত্বশীল ও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘদিন পর অনেক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। এই বাস্তবতায় ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব। সশস্ত্র বাহিনী সেই দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, যেকোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এই সফরে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার বরিশাল এরিয়া, সেনাসদর ও বরিশাল এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধানের এই সফর মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও সমন্বয় কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

