

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে দুয়ারে কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জনমনে ভোটের আকাঙ্ক্ষা তীব্র, রাজপথেও উত্তাপ কমেনি। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি হুংকার আর জোট ও ভোটের ঐক্যের সমীকরণ মিলিয়ে এবারের নির্বাচন যতটা প্রত্যাশার, ঠিক ততটাই চ্যালেঞ্জের।
তফসিলের পরেই সম্ভ্যাব্য প্রার্থী হত্যা, স্বেচ্ছাসেকদল নেতা খুনের ঘটনায় ইতোমধ্যে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। প্রচার শুরু হতেই কেরাণীগঞ্জে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা।
নির্বাচন বিশ্লেষক ড আব্দুল আলীম বলেছেন, এক নম্বরে হলো আইনশৃঙ্খলা। কারণ, এখানে যার সুযোগ আছে, সে শক্তি প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। এটা একেবারে '৭৩ থেকে আমরা দেখে আসছি। ইসির দুর্বলতাও কিন্তু বিরাট পয়েন্ট। কারণ তারা ওই রকম অবস্থায় থাকতে পারে নাই। অনেক কিছু যদি না পারি, তাহলে মুখে বলতে হয় না।
সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার বলেন, কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে। এটা অস্বীকার কারার কোনো উপায় নেই। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায় নাই। বরং আমার কাছে মনে হয় যে ভোট হওয়ার জন্য যদি এটাকে ধরে রাখা যায় তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু সবচেয়ে বড় জিনিসটা হবে এটাকে ধরে রাখা। দুইটা দল একদম মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসছে বিভিন্ন আসেন। তাই এটাকে মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই প্রথম ভোট। আবার গণঅভ্যুত্থানের পর আমূল পাল্টেছে ডিসি-এডিসিসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। যারা আগামী নির্বাচনে মূল দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সাথে একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই।
ড. আব্দুল আলীম বললেন, একটা বড় দল নির্বাচনে নাই, তাদের ভূমিকা কী হবে, সেটি একটি বিষয়? আর যারা নির্বাচন করতেছে, তারা মুখে যাই বলুক, তারা নিজ নিজ সুবিধা মতো শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করবে।
প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গুজব মোকাবেলাও বড় চিন্তার কারণ। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য বা অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, যাতে বিঘ্ন হতে পারে ভোটের পরিবেশ।
আউয়াল মজুমদার বললেন, ইসির লোকরা তো আছে; সারাদেশে উপজেলা, জেলার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের তো নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা আছে। তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে।
এদিকে, ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী রাজপথে নতুন শক্তির উত্থান দেখা গেছে। সব মিলিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন উপহার দেয়া নির্বাচন কমিশনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞরা।

