

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগের মতো এবারও দলটি ভরসা রেখেছে পুরনো মুখগুলোর উপর। নতুন কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ায় জেলায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যাদের নাম তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. শাজাহান মিঞা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্য-নির্বাহী কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে নাম ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদের নাম।
তিনটি আসনেই পুরনো প্রার্থীদের মনোনয়ন পুনঃমনোনয়ন বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ বলেন, দলীয় জরিপ, মাঠে সক্রিয়তা, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং জয়ের সম্ভাবনাই ছিল মনোনয়ন দেওয়ার মূল মানদন্ড। তাই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত প্রার্থীদেরই এবার দল মনোনয়ন দিয়েছে।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা চাই এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হোক। দীর্ঘদিন পর গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে-যার মধ্য দিয়ে দেশে সুশাসনের পরিবেশ ফিরে আসবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বিএনপি’র দূর্গ উল্লেখ করে হারুনুর রশিদ বলেন, অতীতে আমরা জামায়াতের বিরুদ্ধে পাঁচবার জয় পেয়েছি। এবারও তিনটি আসনেই জয়লাভে আমরা আশাবাদী।
তবে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কতটা আত্মবিশ্বাসী-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের বিকল্প নেই। এটি হতে হবে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। আমরা চাই, যারা ভোট পরিচালনা করবেন তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং বড় দল হিসেবে বিএনপি পূর্ণ সহযোগিতা দেবে। একই সাথে আহ্বান জানান নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের প্রতিও।
আওয়ামী লীগের শাসন নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠাগুলো ধ্বংস করেছে, গুম-খুনের রাজনীতি চালিয়েছে। তাদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই নেতা। তবে আওয়ামী লীগের সবাই অপরাধী নয়। তিনি বলেন, গুম, খুন, দূর্নীতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। যারা দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায়, জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের আমরা স্বাগত জানাব। তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বিএনপি।
এদিকে, দলের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং স্বাগত জানিয়েছেন দলের মনোনয়ন না পাওয়া নেতারাও। অন্যদিকে, দলীয় প্রার্থী ঘোষনার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির তৃণমূলে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভে এখন প্রস্তুত পুরনো মুখ, আর ঐক্যবদ্ধ কর্মীরা। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন-পরীক্ষিত নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব দেওয়ায় তারা উজ্জীবিত এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আরও সংগঠিতভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং মাঠে নামবেন তারা।

