

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অবস্থিত চিলমারী নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অরক্ষিত চৌবাচ্চার পানিতে পড়ে তিন বছরের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে নির্মাণাধীন চিলমারী নৌ-বন্দরে ফেলে রাখা একটি পানির চৌবাচ্চায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ওই শিশুর নাম শামিম মিয়া (৩)। সে রমনা মডেল ইউনিয়নের ব্যাপারী পাড়া এলাকার মমিনুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, নির্মাণাধীন নৌ-বন্দরের উত্তর প্রান্তে লোহার তৈরী একটি পানির চৌবাচ্চা মাটিতে স্থাপন করা ছিল, যা বর্তমানে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চৌবাচ্চাটির ভিতরে উন্মুক্ত অবস্থায় ৬-৭ফুট গভীর পানি জমে ছিলো। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় মৎসজীবি মমিনুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগম সাথে ৩ বছরের পুত্র সন্তান শামিম মিয়াকে নিয়ে নদীতে কাপড় কাচতে যান। কাপড় কাচার ফাকে শিশু শামিম মিয়া খেলতে গিয়ে অরক্ষিত ওই চৌবাচ্চার পানিতে পড়ে মারা যায়। পরে শামিম মিয়ার বড় ভাই সোহেল মিয়া ওই পথে যেতে চৌবাচ্চার পানিতে ছোট ভাইয়ের পরনে থাকা গেঞ্জি দেখতে পায়। সেখান থেকে শামিম মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে তারা।
অভিযোগ রয়েছে, চিলমারী নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এর আগেও দুইটি শিশু ওই একই চৌবাচ্চার পানিতে পড়ে গিয়েছিল। সেখানে মানুষজন উপস্থিত থাকায় তাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিপদজনক চৌবাচ্চার বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে স্থানীয়রা একাধিক বার বললেও কোন লাভ হয়নি বলে স্থানীদের দাবী।
এ বিষয়ে চিলমারী নৌ বন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্রকে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চিলমারী নৌ-বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবুল কালাম আজাদকে একাধিকবার ফোন করলে তিনিও ফোন রিসিভ করেন নাই।
চিলমারী নৌ-বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ(আইসি) ইমতিয়াজ কবির জানান, শিশুটির মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ যাতে বিঘ্নিত না হয় এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সমাধান করার জন্য বলেছি। এছাড়াও আইনগত বিষয়ে যা দেখা যায় সেটি আমরা দেখবো বলে জানিয়েছি।

