

মো. আনোয়ার হোসেন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে আব্দুল্লাহ (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চোর সন্দেহে আব্দুল্লাহকে প্রথমে গ্রামবাসীরা নির্যাতন করে এবং পরে ফাঁড়িতে নিয়েও নির্যাতন করা হয়।
জানা যায়, চুরির অভিযোগে গত ২৩/৯/২৫ সলিমগঞ্জ বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে স্থানীয়রা তাকে আটকে মারধর করে সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে সোপ্ররদ করে। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ- ফাঁড়িতে নেওয়ার পরও নির্যাতন করা হয়। কর্তৃপক্ষকে অনুমতি ছাড়া আব্দুল্লাহকে চারদিন ফাঁড়িতে আটকে রাখলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে তিনদিন চিকিৎসার পরও অবস্থার অবনতি হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮/৯/২৫ আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সাকিল মিয়া বাদী হয়ে গত ২৯/৯/২৫ নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছলিমগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন, তবি মিয়া, আলামিন, আয়নাল হকসহ চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- আসামিদের সঙ্ঘবদ্ধতায় আব্দুল্লাহকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করেন পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। আব্দুল্লার মৃত্যুর পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে সলিমগঞ্জ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ফাঁড়িটি বন্ধ করে সেনা মোতায়েন করে।
এ ঘটনার পর পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

