ঢাকা
প্রকাশিত : August 28, 2026
আপডেট: August 28, 2026
প্রকাশিত : August 28, 2026

কয়লা সংকট পেরিয়ে উৎপাদনে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাগেরহাট প্রতিনিধি: দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকট ও ঘাটতির পাশাপাশি লোডশেডিংয়ে যখন চাপে জাতীয় গ্রিড, তখন সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কয়লা সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় অতীতে উৎপাদন ব্যাহত হলেও বর্তমানে কেন্দ্রটির চালু থাকা দুই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ১০০ শতাংশ অ্যাভেইলেবিলিটি বজায় রেখে প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এ সময়ে কেন্দ্রটির গড় উৎপাদন ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট। এছাড়া জুন ২০২৬ মাসে কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, যা গড়ে প্রায় ১ হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট উৎপাদনের সমতুল্য।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক (অপারেশন) খান নোমান শিবলী বলেন, আমাদের রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্ট আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। পরিবেশের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছি। জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রটির মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, বর্তমানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আগে কর্মরত ভারতীয় প্রকৌশলীরা আমাদের নবনিযুক্ত বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এর ফলে আমাদের নিজস্ব প্রকৌশলীরা দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং এখন তারা সক্ষমতার সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করছেন। বর্তমানে যেসব ভারতীয় প্রকৌশলী রয়েছেন, তারা মূলত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাওয়ার প্ল্যান্টের মূল পরিচালন কার্যক্রম বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাই করছেন।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী বলেন, আমাদের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটই চালু রয়েছে। কেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। গ্রিডে যতটুকু চাহিদা থাকছে, আমরা ততটুকুই বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। এপ্রিল মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডের চাহিদা পূরণ করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশের বিষয়টি ঠিক রেখেই কেন্দ্রের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী দিনেও জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত কয়লার মজুদ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ধারাবাহিক উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের জন্য ইতিবাচক। পর্যাপ্ত কয়লা সরবরাহ ও কারিগরি সক্ষমতা বজায় রাখা গেলে কেন্দ্রটি দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram