

মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল: আগামী ১ বৈশাখ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী দিনে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার। পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মী ও টাঙ্গাইলবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এদিন সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাসা থেকে সড়ক পথে রওনা হয়ে প্রথমেই টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবে। মাজার জিয়ারত শেষে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন এবং কৃষদের মাঝে “কৃষক কার্ড“ বিতরণ করবেন। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত “কৃষি মেলার“ শুভ উদ্বোধন করবে। পৌনে একটার দিকে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে উপস্থিত ও নামাজের বিরতি দিয়ে ২টার দিকে সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যাবেন।
টাঙ্গাইল জেলা ছাড়াও কৃষক কার্ড পাচ্ছেন যে জেলা ও উপজেলাগুলো হলো- পঞ্চগড়ের কমলাপুর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।
এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশু খাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় এটি জেলার মানুষের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।
তিনি বলেন, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কৃষকদের জন্য, মেহনতি মানুষের জন্য জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। সেই মাওলানা হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল কৃষি কার্ড উদ্বোধন হবে, অত্যন্ত গর্বের।
তিনি আরো জানান, টাঙ্গাইলের মানুষ এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৈশাখী মেলা, কৃষি মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে, যেখানে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা অংশ নেবেন। ওই দিন টাঙ্গাইল থেকে কৃষক কার্ড উদ্বোধনের পাশাপাশি দেশের আরও ৯টি স্থানে একই সময়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৯টি স্থানে বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষকই এ সুবিধার আওতায় আসবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

