

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরে পুলিশের এক সদস্যের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯০ হাজার ইয়াবা ও নগদ ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ টাকা। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহরের উত্তর হাজীপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। বিশেষ সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে চট্টগ্রাম কোর্ট পুলিশে কর্মরত এসআই শহীদুল্লাহ ওরফে শহীদের মালিকানাধীন বাড়িতে তল্লাশি চালায় ডিএনসির একটি দল। আজ দুপুরে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল।
ডিএনসি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় বাড়ির ভেতরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকা পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়।
অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন, আশিক মোমেন মেহেদী (২৩), তাঁর স্ত্রী সাদিয়া ফারহানা (২৩) এবং সায়মন সরোয়ার (১৬)। ডিএনসি জানিয়েছে, আটক তিনজনই টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
একজন পুলিশ সদস্যের মালিকানাধীন বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে ওই বাড়িতে ইয়াবার এত বড় চালান মজুত করা হলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং মাদক ব্যবসার অর্থই বা কার—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ ও নগদ টাকার অঙ্ক ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখছে। বাড়িটি শুধু মাদক সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো মাদকচক্র সক্রিয়—তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএনসি কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যে বাড়ি থেকে ইয়াবা ও টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, সেই বাড়ির মালিকের মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা বা যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
ডিএনসির এই কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্তে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার হওয়া ৯০ হাজার ইয়াবার উৎস, গন্তব্য, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এবং বিপুল নগদ অর্থের উৎস—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
একই সঙ্গে পুলিশের সদস্যের মালিকানাধীন বাড়িতে কীভাবে মাদকের এমন মজুত গড়ে উঠল, বাড়িটি কারা ব্যবহার করত এবং এর সঙ্গে স্থানীয় কোনো মাদকচক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং বাড়িটি কীভাবে মাদক সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

