

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার চরম লঙ্ঘন এবং আর্থিক অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি (পিলার) স্থাপন ও স্থানান্তরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (নড়াইল)-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) হাওলাদার রুহুল আমিন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে দু’টি স্থানে অবৈধভাবে দু’টি খুঁটি স্থাপন এবং অন্য একটি স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগের খুঁটি সরিয়েছেন। এ ঘটনায় নড়াইল জেলার সর্বত্র তীব্র জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষে এবং পাইকমারী গ্রামের বাসিন্দা ববিতা বেগমের বসতবাড়িতে সরকারি নিয়ম অমান্য করে দু’টি নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হয়েছে। একই সাথে আগ্রাহাটি এলাকা থেকে একটি পুরনো বৈদ্যুতিক খুঁটি সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ও বেআইনিভাবে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, কোনো ধরনের বৈধ দাপ্তরিক অনুমোদন, নিরাপত্তা সমীক্ষা কিংবা নকসা ছাড়পত্র ছাড়াই এসব খুঁটি স্থাপন করা হয়।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ এসব ঝুঁকিপূর্ণ বেআইনি কার্যক্রমের মূলহোতা হলেন ডিজিএম হাওলাদার রুহুল আমিন। তাঁর প্রত্যক্ষ মদদে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয়দানকারী পাইকমারী গ্রামের বাশার কাজী নামক এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। একটি প্রভাবশালী চক্রের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতেই সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে দ্রুততম সময়ে এই খুঁটিগুলো বসানো ও স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (নড়াইল)-এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আনন্দ কুমার পাল সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। তদন্ত শেষে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে সরেজমিন পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে নিয়মবহির্ভূত খুঁটি স্থাপন ও স্থানান্তরের সুস্পষ্ট অনিয়ম ও প্রমাণের সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিমালা ও আইন অনুযায়ী শিগগিরই পরবর্তীতে দাপ্তরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে ডিজিএম রুহুল আমিনের এমন বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকান্ড জনসম্মুখে উন্মোচিত হওয়ার পর ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসানো খুঁটিগুলো উচ্ছেদ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে কোনো লোক দেখানো বা পাতানো তদন্ত নয়, বরং সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ ও উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির মূলহোতা ডিজিএম রুহুল আমিন-সহ এ সিন্ডিকেটের সবার বিরূদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
যদিও এসব অভিযোগ প্রত্যাখান করে ডিজিএম হাওলাদার মোঃ রুহুল আমিন নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, বাশার কাজী আত্মীয় হওয়ার সুবাদে তাঁর বাড়িতে তিনি গিয়েছেন। কিন্তু তার কাছ থেকে তিনি কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধার সাথে তিনি জড়িত নন। যেসব স্থানে অবৈধভাবে দু’টি খুঁটি বসানো হয়েছে, সেগুলো দ্রুততম সময়ে উচ্ছেদ ও অপাসারণ করা হবে। এ ছাড়া আগ্রাহাটিতে অবৈধভাবে খুঁটি স্থানান্তরের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

