

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি রবিউল সিকদার রবিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপর সাড়ে ১২ টার দিকে নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যূনাল আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকান্ডের এক মাসের মধ্যে এবং আদালত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার ৮ কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হলো।
রায় ঘোষণার সময় আসামি রবিউল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষনার পর শিশু জান্নাতুল মাওয়া এর স্বজনরা এ রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। বুধবার সকাল থেকেই আদালত অঙ্গনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশ আসামি রবিউলকে আদালতে উপস্থাপন করেন।
প্রসঙ্গত, নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় একমাত্র আসাি করে রবিউল সিকদারের নামে ধর্ষণপূর্বক হত্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মাত্র ১১ কার্যদিবসের মধ্যে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নড়াইল আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুন্ডু।
এ মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই (সোমবার) সন্ধ্যায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে বাড়ির পাশ থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। স্বজনরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্ত প্রতিবেশি রবিউল শিকদার ওরফে রবি (৩৫)-এর ঘরের ভেতরে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় পরের দিন ২১ জুলাই জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল সিকদার রবিকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানাজানি হলে পরদিন মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেফতার করে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দোষীর ফাঁসির দাবিতে ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, চাঞ্চল্যকর এই শিশু হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেন। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্র হাতে পাওয়ায় ১১ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

