

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬’। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক্সপোটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএফপিআইএ) ও এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে। এতে কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে টাম্পাকো গ্রুপ। আয়োজকেরা জানান, প্যাকেজিং শিল্পে প্রযুক্তি, টেকসই উৎপাদন, জ্বালানি দক্ষতা ও শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এই এক্সপোর লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। প্যাকেজিং শিল্পের বিকাশে উদ্যোক্তাদের সুস্পষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চায় প্যাকেজিং খাত আরও সম্প্রসারিত হোক, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং বাংলাদেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখুক।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফপিআইএ) সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার এই শিল্পে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পূরণ করছে।
তার ভাষ্য, প্যাকেজিং শিল্প এখন আর শুধু সহায়ক খাত নয়; এটি দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা ও আধুনিক ভোক্তা অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের মতো উৎপাদন দক্ষতার মাধ্যমে প্যাকেজিং শিল্পও বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি সম্ভাবনার খাত হয়ে উঠতে পারে।
সাফিউস সামি আলমগীর আরও বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ, নীতিগত ধারাবাহিকতা ও ন্যায্য করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্যাকেজিং শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। প্যাকেজিং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দামও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আব্দুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এক্সপোতে ১২টি দেশের ১৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। ৩২০টি স্টলে প্যাকেজিং, প্রিন্টিং, প্রসেসিং ও শিল্প প্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিন দিনে ১০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

