

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি: ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঁইয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়ন নিয়েছিলেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনাগাজীর কৃতি সন্তান খালেদ মাহমুদ মাসুদ। কিন্তু তার সমর্থনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করা ভোটারকে মৃত দাবি করে মাসুদের মনোয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন ফেনী জেলা প্রাশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক। এই আদেশের আপিল শুনানিতে রোববার নির্বাচন কমিশনে মৃত দাবি করা সেই ভোটারকে নিয়ে হাজির হন মাসুদ। তাই যাচাই বাছাই শেষে খালেদ মাহমুদ মাসুদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আপিল শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেয় কমিশন।
খালেদ মাহমুদ মাসুদ বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৫ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর দেওয়ার নিয়ম অনুযায়ী আমি আনোয়ারা বেগম নামের একজন ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার বিরুদ্ধে মৃত আনোয়ারা বেগমের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ তুলে আমার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। অথচ যেই আনোয়ারাকে মৃত দাবি করা হচ্ছে, তিনি স্বাক্ষরই দিতে পারতেন না। তিনি আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করতেন। তাই আমি নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে সরাসরি জীবিত আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে এসেছি। নির্বাচন কমিশন স্বাক্ষর যাচাই করে আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন। যদি আমি এটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হতাম তাহলে এটি আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালো দাগ হয়ে থাকতো। এটাতে আমি প্রমাণ করে দিলাম, আমি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি আরো বলেন, ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেই প্রার্থীতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবো।
উল্লেখ্য, ফেনী-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে রোববার সন্ধ্যায় আপিল খারিজ করে মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিয়ে জামায়াত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক আদালতে আইনি মোকাবেলা করার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে ঝুলন্ত থাকলে কিংবা বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী হতে পারেন খালেদ মাহমুদ মাসুদ। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি ভোটের মাঠে থাকবেননা। এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছেন মাসুদ।

