ঢাকা
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
দুপুর ১২:১৮
প্রকাশিত : আগস্ট ১৭, ২০২৫
আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০২৫
প্রকাশিত : আগস্ট ১৭, ২০২৫

কুমিল্লায় অর্ধেকের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা: কুমিল্লার শিক্ষা ব্যবস্থায় নীরব সংকট দীর্ঘ হচ্ছে। জেলার ১৭টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান চলছে প্রধান শিক্ষকবিহীন অবস্থায়। প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে পাঠদানসহ নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলায় মোট ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯০৯টিতে প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকি ১ হাজার ১৯৮টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শূন্য। প্রধান শিক্ষক না থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক চলতি দায়িত্ব পালন করছেন, যা কার্যক্রমের মান ও শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।

উপজেলা পর্যায়ের হিসাব বলছে, সংকট প্রায় সর্বত্র। আদর্শ সদর উপজেলার ১১০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯টিতে, লাকসামে ৭৬টির মধ্যে ৪৩টিতে, দেবীদ্বারে ১৮৫টির মধ্যে ১২০টিতে, মুরাদনগরে ২০৪টির মধ্যে ১২৯টিতে এবং দাউদকান্দিতে ১৪৯টির মধ্যে ১০১টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। চৌদ্দগ্রামে ১৭৫টির মধ্যে ১১৪টি, ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০৮টির মধ্যে ৫৬টি, বরুড়ায় ১৫৪টির মধ্যে ৯৩টি এবং বুড়িচংয়ে ১৪৯টির মধ্যে ৫৬টি বিদ্যালয়ে একই অবস্থা। এছাড়া চান্দিনায় ১৩৬টির মধ্যে ৬৫টি, হোমনায় ৯২টির মধ্যে ৬০টি, নাঙ্গলকোটে ১৫১টির মধ্যে ৮৫টি, মেঘনায় ৬৫টির মধ্যে ৪০টি, মনোহরগঞ্জে ১০৪টির মধ্যে ৬৩টি, তিতাসে ৯২টির মধ্যে ৫৫টি, সদর দক্ষিণে ৯০টির মধ্যে ৪৫টি এবং লালমাইয়ে ৬৭টির মধ্যে ৩৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শূন্য।

এই সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। আদর্শ সদর উপজেলার অভিভাবক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় স্কুলের শৃঙ্খলা ধরে রাখা কঠিন হয়ে গেছে। সহকারী শিক্ষকরা যতই চেষ্টা করুন, নেতৃত্বের অভাব স্পষ্ট বোঝা যায়।

দেবীদ্বারের আরেক অভিভাবক রুবিনা আক্তার বলেন, আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া ঠিকমতো হচ্ছে না। স্কুলের নিয়মিত কার্যক্রমও অনেক সময় থেমে যায়। এত বড় জেলার এত স্কুলে কেন প্রধান শিক্ষক নেই, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের প্রাণ হলো প্রধান শিক্ষক। তিনি শুধু পাঠদানের মান নির্ধারণ করেন না, বরং বিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব পালন করেন। সেই নেতৃত্বহীনতা কুমিল্লার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল জানান, প্রধান শিক্ষক পদে ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হয়। বর্তমানে শূন্য পদগুলোর অধিকাংশই পদোন্নতির জন্য খালি রয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমাদের উপদেষ্টা মহোদয় জানিয়েছেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং শূন্য পদ পূরণ হবে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram