

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবির নেতা তুহিন হত্যা মামলায় জামিন নিতে এসে ফেরার পথে অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন এবং জেলা আওয়ামী লীগের অপর সহ-সভাপতি ও বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম রাব্বানীকে।
এ সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন ওই দুই আওয়ামীলীগ নেতা। পরে পুলিশ পাহারায় থানায় নেওয়ার পথে তাদের লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারেন উত্তেজিত নেতাকর্মীরা।
আজ বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন নিতে আসলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা অবস্থায় ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালত আগামী ২৮ জুলাই তাদের জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
তুহিন হত্যা মামলার আইনজীবী নুরে আলম সিদ্দিকী আসাদ জানান, ২০১৫ সালে শিবির নেতা আসাদুল্লাহ তুহিন হত্যা মামলায় আসামিদ্বয় আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত আগামী ২৮ জুলাই জামিন আবেদনের শুননির দিন ধার্য করেছেন।
মামলার আইনজীবী আরও জানান, ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি তুহিনকে নিজ বাসা থেকে চোঁখ বেঁধে উঠিয়ে নিয়ে এসে হত্যা করে র্যাব। পরের দিন মেডিকেলের মর্গে তার লাশ শনাক্ত করে তার পরিবারের লোকজন। পরে সড়ক দূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয় র্যাবের পক্ষ থেকে। ঘটনার ৯ বছর পর ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর সদর মডেল থানায় ২১ জন এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তুহিনের মামা কবিরুল ইসলাম কবির। ওই মামলায় ২ ও ৩ নং আসামিছিলেন ডা. গোলাম রাব্বানী ও রুহুল আমিন।
মামলার বাদী কবিরুল ইসলাম জানান, তুহিন হত্যায় আসামিদের প্রত্যক্ষ মদদ ছিলো এবং তাদের উপস্থিতিতে র্যাব ক্যাম্পে তাকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে এমন নাটক সাজানো হয় এবং র্যাবের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, নিরাপত্তার কারণে পুলিশ রুহুল আমীন ও গোলাম রাব্বানীকে থানায় নিয়ে এসেছে। ওসি আরও জানান, তুহিন হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা ২৮ জুলাই পর্যন্ত জামিনে থাকলেও; পরে তাদের অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এদিকে দুপুরে ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতার আদালতে আত্মসমর্পণের খবরে আদালত প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আদালতের বারান্দায় বিভিন্ন স্লোগান দেন। আদালত প্রাঙ্গন থেকে বের হয়ে রাস্তায় তাদের লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মাারেন নেতাকর্মীরা।

