

'যেকোনো ফরম্যাটে এটিই বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয়' অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর এই মন্তব্য কাগজে-কলমের পরিসংখ্যানের সঙ্গে পুরোপুরি না মিললেও, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক এই জয়ের মাহাত্ম্য বোঝাতে যথেষ্ট। কারণ বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয় এসেছিল। যা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ১০ উইকেটের জয়।
তবে ডারউইনের জয়কে আলাদা করে দেখার যথেষ্ট কারণ আছে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিল টাইগাররা। তখন সদ্য টেস্ট মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলাটাই ছিল বড় অর্জন। কিন্তু সেই সিরিজের দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল তারা।
২০০৩ থেকে ২০২৬— কেটে গেছে ২৩ বছর। আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পূর্ণশক্তির দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশ শুধু জেতেনি, পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য দেখিয়েছে। এক দিন হাতে থাকতেই ৯ উইকেটের জয় তুলে নেওয়া তাই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক।
২০১৭ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আর ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এসেছিল ঐতিহাসিক ১০ উইকেটের জয়। কিন্তু এবার অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে গিয়ে, টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তিকে চার দিনে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে বাংলাদেশ—সেখানেই ডারউইনের জয়ের মাহাত্ম্য।
অধিনায়ক শান্তর কথাতেও ফুটে উঠেছে সেই পরিবর্তনের গল্প। পাঁচ বছর আগেও যেখানে পেসারদের মধ্যে টেস্ট খেলার অনীহা ছিল, এখন তারাই এই ফরম্যাটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, খেলতে চাইছেন, পারফর্ম করে বিশ্বমানের হতে চাইছেন। মুশফিকুর রহিম ও মমিনুল হকের মতো সিনিয়রদের উৎসাহও বদলে দিয়েছে দলের মানসিকতা।
অর্থাৎ, ডারউইনে শুধু অস্ট্রেলিয়াকে হারায়নি বাংলাদেশ; জিতেছে নিজেদের বদলে যাওয়ার প্রমাণও। ২০০৩ সালের টেস্ট ক্রিকেটের ‘দুধের শিশু’ বাংলাদেশ এখন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে টেস্টের এলিট গেমের একটি বিশ্বাসযোগ্য দলে। আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর পাওয়া এই জয় সেই পরিণত হওয়ার গল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি।

