ঢাকা
প্রকাশিত : September 11, 2026
আপডেট: September 11, 2026
প্রকাশিত : September 11, 2026

ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মায় পানি বাড়ছে অস্বাভাবিক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর উজানে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটের সবক’টি খোলা রয়েছে। এই ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমেই ভারতের গঙ্গা নদী থেকে পানি আসে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে। সব গেট খুলে দেওয়ায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যগুলোর খবরে বলা হয়েছে- ভারতের বিহার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দেয়া হয়। ফারাক্কার সব গেট খুলে দিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী অনুরোধ করেন দেশটির পানিসম্পদ বিভাগকে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে- গত ৩০ আগস্ট থেকে ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেয়া হয়। এ ব্যারেজের মাধ্যমে ভাটির দিকে অর্থাৎ বাংলাদেশের দিকে ১৪ দশমিক ৪৪ কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা নদীর পানির স্তর দ্রুত কমছে। এতে করে বিহারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

এদিকে ফারাক্কার সব গেট খুলে রাখার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে পানির স্তর বেড়েছে দ্রুতই। গত ৫ দিনে পদ্মা নদীতে পানি বেড়েছে ৬৫ সেন্টিমিটার। এতে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে ওই সব এলাকার মানুষ। বিশেষ করে সদর উপজেলার নারায়নপুর, শাহজাহানপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকাড পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষজন। অনেকেই ঘরবাড়ি ও ফসলের পাশাপাশি গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুটি উপজেলায় এখন পর্যন্ত পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা। ফলে বন্ধ রয়েছে পাঠদান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ শুক্রবার পদ্মায় ৭ সেন্টিমিটার এবং মহানন্দা ১০ ও পুনর্ভবা নদীতে ১৩ সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে। তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে পানি বাড়লেও, জেলার তিন নদীর কোনোটিরই বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। আগামীকাল থেকে পানি স্থিতিশীল হতে শুরু করবে এবং পানি কমতে শুরু করবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট ২৯ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কার কথা নাকচ করলেও নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram