

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে মশক নিধনে ব্যবহারের জন্য থাকা ফগার মেশিন নিয়মিত ব্যবহার না করার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদে ফগার মেশিন থাকলেও সেগুলো দিয়ে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় অনেক ফগার মেশিন অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মশক নিধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ফগার মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু সেগুলো নিয়মিত মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে না। কোথাও দীর্ঘদিন ধরে ফগিং কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। ফলে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
কলাতিয়ার বাসিন্দা অপু মিয়া বলেন, “আমাদের এলাকায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর ওষুধ ছিটানো বা ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের জন্য কাউকে আসতে দেখিনি। মশার উপদ্রব বাড়লেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।”
আটি বাজারের বাসিন্দা মহসিন বলেন, “সন্ধ্যা নামলেই আমাদের এলাকায় মশার উৎপাত বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, খালপাড়, ডোবা-নালা, জলাবদ্ধ স্থান ও অপরিষ্কার ড্রেনের আশপাশে মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গুর মৌসুমে এমন পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে পড়ে।”
কালিন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা নয়ন জানান, দিনের বেলায় মশার উৎপাত কিছুটা কম থাকলেও বিকেল থেকে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই ঘরের ভেতর মশারি ব্যবহার করলেও বাইরে বের হলে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
জিঞ্জিরার বাসিন্দা রাহাত বলেন, “শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-নালা পরিষ্কার, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং জমে থাকা পানি দ্রুত সরানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হবে কি না, কখন ছিটানো হবে—এ বিষয়ে অনেক সময় স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুই জানতে পারেন না। ফলে মশক নিধন কার্যক্রম থাকলেও তা কতটা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রতিটি ইউনিয়নে ফগার মেশিন সচল করে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালু, কার্যক্রমের সময়সূচি প্রকাশ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে কেরানীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে একযোগে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ডোবা, নর্দমা, খাল ও বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিকে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়েছিল।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেস বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন, “ফগার মেশিনগুলো নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে কি না, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। যেসব মেশিন অচল হয়ে পড়ে আছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

