ঢাকা
২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১০:৩৯
প্রকাশিত : জুলাই ২১, ২০২৬
আপডেট: জুলাই ২১, ২০২৬
প্রকাশিত : জুলাই ২১, ২০২৬

চট্টগ্রাম শহরের যেসব জায়গা আপনাকে মুগ্ধ করবে

মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম। পাহাড় ও সমুদ্রে ঘেরা চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। তাই চট্টগ্রামকে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে ডাকা হয়। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস। ঢাকার মত এই শহরটিও এরইমধ্যে ফ্লাইওভারে ঢেকে গেছে। পাশাপাশি যানজটের দিক থেকে ঢাকার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকলেও এর দর্শনীয় স্থানগুলো এখনো আকর্ষণ হারায়নি।

চট্টগ্রাম শহরের মধ্যেই রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। কোনো কাজে চট্টগ্রাম গেলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই স্থানগুলোতে ঘুরে আসতে পারবেন।

ফয়'স লেক

ফয়'স লেক একটি কৃত্রিম হ্রদ। পূর্বে এটি পাহাড়তলী লেক হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা এবং নৌকা ভ্রমণ ইত্যাদির কারণে দেশি বিদেশি ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ফয়'স লেক বেশ জনপ্রিয়। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর খুলশী এলাকার প্রধান সড়কের পাশে ফয়’স লেকের তোরণ। সেখান থেকে কিছুটা ভেতরে এর মূল প্রবেশ পথ।

পাহাড়ের কোলঘেঁষে আঁকাবাঁকা লেকটি অপরূপ নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক। ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত ফয়’স লেকের অন্যতম আকর্ষণ পাহাড়ি প্রকৃতি। বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে পানির কলকল ধ্বনিতে মুখরিত ফয়'স লেকে নৌভ্রমণ অন্যরকম আনন্দদায়ক। বনভোজনের জন্য ফয়'স লেক দারুণ একটা জায়গা। আরেকটি টিলার উপরে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে চট্টগ্রাম শহরের বার্ডস আই ভিউ দেখা যায়। ফয়’স লেকের অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড-এ বেশ কিছু আধুনিক রাইড রয়েছে।

সিআরবি

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহরের অতি প্রাচীনতম স্থাপনার নাম সিআরবি। এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে সেন্ট্রাল রেলওয়ে ভবন। কালজয়ী ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে সিআরবি ভবন। নাগরিক জীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি, আরাম আর মানসিক প্রশান্তির খোঁজে সময় পেলে মানুষ জমায়েত হয় এই সিআরবি শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে। পুরো এলাকায় দৃষ্টিনন্দন আঁকা-বাঁকা, সর্পিল রাস্তা উঁচু নীচু সবুজ পাহাড় টিলা, বন-বনানী ছায়া সুনিবিড় এই বিরাট এলাকাটি অঘোষিত ভ্রমণের জায়গা হিসেবে যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রামের মানুষদের দিয়ে আসছে বিনোদনের আস্বাদন।

সিআরবির সাত রাস্তার মোড় ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে। পাহাড়ঘেরা মনোরম পরিবেশে নির্মাণ করা হয়েছে শিরীষতলাসহ বেশ কিছু নান্দনিক স্থাপনা। শিরীষতলায় বসে জমিয়ে আড্ডা দেয়া যায়, মাঠে খেলা যায়। সাথে দেখবেন মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দেয়া শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম স্মৃতিফলক, তারপর নজরে আসবে ১৮৯৯ সালের তৈরি বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিনের মডেল।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

নগর জীবনের ক্লান্তিকর একঘেয়েমি থেকে নগরবাসীকে একটু বিনোদনের ছোঁয়া দিতে চট্টগ্রামের ফয়’স লেকের পাশে সবুজে ঘেরা বনবীথির আবেষ্টনীতে ১৯৮৮ সালে তৈরি করা হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। এটি শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তর-পূর্বদিকে পাহাড়তলী ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাহাড়ের পাদদেশে ১০ দশমিক ২ একর ভূমির উপর অবস্থিত। বর্তমানে এই চিড়িয়াখানায় ৭২ প্রজাতির সাড়ে তিন শতাধিক প্রাণী রয়েছে; যার মধ্যে ৩০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৮ প্রজাতির পাখি ও ৪ প্রজাতির সরীসৃপ।

জাম্বুরি পার্ক

জাম্বুরি পার্ক চট্টগ্রামের একটি উন্মুক্ত উদ্যান। এটি আগ্রাবাদের এস এম মোরশেদ সড়কে অবস্থিত। এই পার্কে রয়েছে দীর্ঘ চক্রাকার হাঁটার পথ আর ৮ হাজার রানিং ফুটের উদ্যানটিতে র‍য়েছে প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুটের জলাধার, যার কিনারায় র‍য়েছে বসার জন্য তিনটি বড় গ্যালারি। জলাধারের পাশে রয়েছে দুইটি পাম্প হাউস। এছাড়াও র‍য়েছে সাড়ে পাঁচশ আলোক বাতির পাশাপাশি বর্ণিল ফোয়ারা। উদ্যানের চারপাশে চারটি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে দুইটি টয়লেট ব্লক, একটি গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ অফিস ও একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র। প্রবেশের জন্য রয়েছে ৬টি ফটক। উদ্যানটিতে রোপণ করা হয়েছে সোনালু, নাগেশ্বর, চাঁপা, রাধাচূড়া, বকুল, শিউলি, সাইকাস, টগর, জারুলসহ ৬৫ প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব রণাঙ্গনে নিহত সৈনিকদের একটি সমাধিক্ষেত্র। চট্টগ্রাম মহানগরের বাদশা মিঞা সড়কে (জয়নগর মৌজা) এর অবস্থান। তখনকার চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে পূর্ব ও দক্ষিণে বিন্যস্ত অশ্বক্ষুরাকৃতি পাহাড়ের পাদদেশে একটি ধানক্ষেতে এ সমাধিক্ষেত্র স্থাপিত। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন। এখানে যুদ্ধে নিহতদের ৭৫৫টি কবর আছে। যুদ্ধ চলাকালে এখানে চট্টগ্রামে সামরিক প্রশিক্ষণের সুবিধাসহ মিত্র শক্তির চতুর্দশ বাহিনীর অগ্রবর্তী শিবির এবং ব্রিটিশ জেনারেল হাসপাতাল নম্বর ১৫২ স্থাপিত হয়। ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালটি সক্রিয় ছিল এবং প্রাথমিকভাবে এ কবরখানায় ৪০০ জন সৈনিকের মৃতদেহ সামরিক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সমাধিস্থ হয়।

যুদ্ধ শেষে লুসাই, ঢাকা, খুলনা, যশোর, কক্সবাজার, ধোয়া পালং, দোহাজারি, রাঙ্গামাটি এবং পটিয়ার অস্থায়ী সমাধি থেকে আরও অনেক লাশ নিয়ে আসা হয় এ সিমেট্রিতে। সমাধিক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় রাখা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ আছে আরও ৬৫০০ জন যুদ্ধে নিহত নাবিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ১৫টি ডুবে যাওয়া জাহাজের নাম।

বাটালি হিল

চট্টগ্রামের মূল কেন্দ্রে অবস্থিত বাটালি হিল। এটি চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়। বাটালি পাহাড় যা বাটালি হিল নামেও পরিচিত। চট্টগ্রামের টাইগার পাস এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রামের শহরের সর্বাধিক উঁচু পাহাড়। এর উচ্চতা প্রায় ২৮০ ফুট। বাটালি হিলের সর্বোচ্চ চূড়াটিকে বলা হয় শতায়ু অঙ্গন। এর চূড়া থেকে বঙ্গোপসাগর এবং চট্টগ্রাম শহরের বড় অংশ পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। এই বাটালি হিল আবার ‘জিলাপি পাহাড়’ নামেও পরিচিত। এর কারণ হচ্ছে- পাহাড়ের উঠার রাস্তাটি জিলাপির প্যাঁচের মত আকা-বাকা পথ বেয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে এর ফলে পাহাড়ের চূড়ায় উঠার সময় অন্যরকম একটা চমৎকার অনুভূতি হয়।

চট্টগ্রাম শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে টাইগারপাস এলাকায় বাটালি হিল অবস্থিত। চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার এলাকার ইস্পাহানী মোড়ের উত্তরে ফাহিম মিউজিকের পাশ ঘেঁষে উপরে দিকে উঠে গেছে বাটালি হিলের রাস্তা। এ রাস্তা ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির পেছন দিয়ে চলে গেছে।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামবাসীর বিনোদনের অন্যতম প্রধান স্থান। একদিকে সমুদ্রের আছড়ে পড়া বিস্তীর্ণ জলরাশি, অন্যদিকে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য। দুইয়ে মিলে যেন এক নৈসর্গিক পরিবেশ। স্থানীয়রাতো বটেই, দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকদের ভিড়ে নিয়মিত মুখরিত থাকে পতেঙ্গা।

পতেঙ্গায় রয়েছে নান্দনিক ফুল বাগান, পর্যটকদের জন্য সুসজ্জিত বসার স্থান, সাগরপাড়ের বিস্তৃত ওয়াকওয়ে। দিনের বেলায় যেমন দর্শনার্থীদের মনের মধুর দাগ কাটতে সক্ষম এই সৈকতে, তেমনই রয়েছে এর রাতের সৌন্দর্য। সমুদ্র পাড়ের মৃয়মান আলো আর শীতল বাতাস যে কারও প্রাণ জুড়াতে সক্ষম।

চট্টগ্রাম শহরের ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে এই সৈকতটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সমুদ্র সৈকতে সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা বেড়ি বাঁধ দেয়া হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ঘাঁটি বিএনএস ঈসা খান পতেঙ্গার সন্নিকটে অবস্থিত। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর এর অনেক জেটি এইখানে অবস্থিত।

প্রজাপতি পার্ক

প্রজাপতি পার্ক বা বাটারফ্লাই পার্ক চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি সড়কে অবস্থিত। প্রায় ৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত পার্কটিতে আনুমানিক ৬০০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। ধারণা করা হয় পার্কটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম প্রজাপতি পার্ক। দেশের একমাত্র এ প্রজাপতি পার্কে রয়েছে ট্রপিক্যালগার্ডেন, বাটারফ্লাই জোন, বাটারফ্লাই মিউজিয়াম, বাটারফ্লাই রিয়ারিংরুম, কৃত্রিম হ্রদ-ঝর্ণা, ফিশফিডিং জোন ও বাটারফ্লাই ফিডিং জোন। পার্কে কয়েক হাজার প্রজাপতি রয়েছে।

সাধারণত সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে এবং বিকেলের দিকে পার্ক জুড়ে প্রজাপতি উড়ে বেড়াতে দেয়া যায়। সন্ধ্যার আগে থেকেই প্রজাপতি ঝোপের মধ্যে অবস্থান নিতে শুরু করে তাই সন্ধ্যার পর দেখা যায় না। দর্শনার্থীদের জন্য পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram