ঢাকা
৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:২৮
প্রকাশিত : মে ৪, ২০২৬
আপডেট: মে ৪, ২০২৬
প্রকাশিত : মে ৪, ২০২৬

ডেমরায় পলিস্টার প্যাকেজিং কারখানায় অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু

মোঃ হারুন অর রশিদ, ডেমরা প্রতিনিধি: ডেমরায় ইমোরটোফ্লেক্স নামে পলিস্টার প্যাকেজিং কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ শ্রমিক মো: সুজন মিয়া (২২) মারা গেছেন। সোমবার (৪ মে) সকাল ৭ টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার সুরুজ্জামানের ছেলে। কারখানায় ভয়াবহ ওই অগ্নিকান্ডে শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় সুজনকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনাকেই দায়ী করছেন মৃতের পরিবার। এদিকে সুজনের মৃত্যুর ঘটনায় ডেমরা থানায় অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে সোমবার বিকালে। ওইদিনই পরিবারের কাছে মৃতের লাশ হস্তান্তর করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন (পিপিএম) বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে আমুলিয়া মডেল টাউনের ভেতরে ওই প্যাকেজিং কারখানায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এখানে চিপস ও চানাচুরসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যপণ্যের প্যাকেট প্রস্তুত করা হতো। এ সময় সুজন আগুনে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ওই কারখানার মেশিন ও মালামাল করে ছাই হয়ে যায়। বিশেষ করে কারখানাাটিতে ধাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রিন্টিং মেশিনে যন্ত্রাংশের ঘর্ষণের ফলে ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত ইমোরটোফ্লেক্স পলিস্টার প্যাকেজিং কারখানায় ফায়ার সার্ভিসের সেফটি প্ল্যান ছিলনা। তাছাড়া কারখানাতে প্রিন্টিং, এল ডি, লেমিনেশন ও পাউসসহ মোট ৪ চারটি মেশিন ছিল একটি ইউনিটে। মূলত প্রিন্টিং মেশিন থেকেই আগুন ছড়িয়ে গেছে। এক্ষেত্রে ট্রের মধ্যে থাকা কেমিক্যাল এর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কারখানায় থাকা ফায়ার এক্সটিং গুসার দিয়ে প্রথমে শ্রমিকরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। তারা যদি শুরুতেই ফায়ার সার্ভিসে খবর দিত তাহলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পেতে হতো না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সরকারি পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, কারখানাটিতে ফায়ার সার্ভিসের সেফটি প্ল্যান ছিল না। তাছাড়া আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চোখে পড়েনি। তবে এখানে কর্তৃপক্ষ কিভাবে কারখানাটি স্থাপন করেছে সে বিষয়টি আমরা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনব। কারখানাতে যদি সেফটি প্ল্যান থাকতো তাহলে কিভাবে অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন নিয়ন্ত্রণ করবে বা কি কি যন্ত্রপাতি থাকবে তার সবকিছুই ব্যবস্থা থাকতো এখানে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, পরে সকল তথ্য নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এভাবে ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউনের মত নিরিবিলি এলাকায় সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তরের অনুমতি বাদে এ কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কারখানা তদারকির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বিনা অনুমোদনে নিরাপত্তাহীনভাবে এই কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য মালিকদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram