ঢাকা
১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ৬:৫৬
প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০২৫
আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২৫
প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০২৫

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

মাজহারুল ইসলাম বিপু, লালমনিরহাট: গত বুধবার সকাল থেকে লালমনিরহাটে তিস্তার নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বেড়েছে দুর্ভোগ। নিম্নাঞ্চলগুলোর অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করায় এখনো অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে বন্যা দেখা দেয়ায় বিপাকে পড়েছে বৃদ্ধ নারী, পুরুষ, শিশু ও গবাদি পশু নিয়ে। নিম্নাঞ্চলগুলোর রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় চরাঞ্চলের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের। দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে তিস্তা পাড়ের মানুষজন।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার), যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর ছিলো যা বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ডালিয়া পয়েন্ট-পানির সমতল ৫২.০০মিটার (বিপদসীমা=৫২.১৫মিটার) যা বিপদসীমার ১৫ সে.মি নিচে। বৃহস্পতিবার ডালিয়া পয়েন্টে সকাল ৬ টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে পানির সমতল ৫১.৯৮ মিটার (বিপদসীমা = ৫২.১৫ মিটার) যা বিপদসীমার ১৭ সে.মি নিচে। সকাল ৯ টায় পানির সমতল ৫১.৯৭ মিটার (বিপদসীমা = ৫২.১৫ মিটার) যা বিপদসীমার ১৮ সে.মি নিচে। বেলা ১২ টায় পানির সমতল ৫২.০৪ মিটার (বিপদসীমা = ৫২.১৫ মিটার) যা বিপদসীমার ১১ সে.মি নিচে রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতে বিপদের সীমা অতিক্রম করে। ফলে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি চর, পাটগ্রাম উপজেলা দহগ্রাম, আদিতমারী উপজেলা চর গোবর্ধন, মহিষখোঁচা এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলা খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের চর এবং নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে বন্যা দেখা দেয়। পানি ধিরে ধিরে নামতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বাড়িতে, রাস্তায়, বাজারে ও স্কুলের মাঠে এখনও পানি রয়েছে।

খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাদল জানান, প্রতিবছর এই তিস্তা নদীর বন্যার কারণে হাজার হাজার ঘরবাড়ি নদী ভাঙনের শিকার হন, একদিনের বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে যদি আবারও বন্যা আসে তাহলে এই এলাকার মানুষের আবাদি ফসল সহ ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই ইউনিয়নের আশরাফুল জানান, আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত আর কত বন্যা দেখতে হবে নদী ভাঙ্গন দেখতে হবে অতীতের সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। বর্তমান সরকার যদি তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তাহলে আমরা উপকৃত হব।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ জানান, এবারের একদিনের বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আবার যদি বন্যা আসে তাহলে আমাদেরকে পথে বসতে হবে।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর হতে জানানো হয়েছে, বন্যা বা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত মানুষদের সার্বিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন শাখার পক্ষ থেকে জিআর চাল (দুর্যোগ) প্রতিটি উপজেলায় ২০০ মেট্রিক টন চাল উপবরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, ঢেউটিন ও শুকনা খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বক্ষণিক এ বিষয়ে খোজ খবর রাখা হচ্ছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের ধরলা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে তিস্তা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে; আগামী ০পূর্ব ২ দিন উক্ত নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে ও ৩য় দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এ সময়ে তিস্তা নদীর পানি সমতল সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।

সর্বশেষ
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮, মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1736 786915, +880 1300 126 624, ইমেইল: online.bdsangbad@gmail.com (online)
news@bd-sangbad.com, ads@bd-sangbad.com
বাংলাদেশ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।  অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram