

মো: ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুরে বুধবার (২ জুলাই) দুপুরের দিকে আকাশে সূর্যের চারদিকে হঠাৎ দেখা যায় গোলাকার রংধনুর মতো এক রহস্যময় বলয়। বিরল এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে অনেকেই থমকে যান, মোবাইলে ধারণ করেন মুহূর্তটি। কেউ কেউ বলেন, "জীবনে প্রথম এমন কিছু দেখলাম!" সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এর ছবি ও ভিডিও।
এই অসাধারণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকৃতিক ঘটনার নাম “সান হ্যালো” (Sun Halo) বা “২২-ডিগ্রি হ্যালো” (22-degree Halo)। এটি একটি বায়ুমণ্ডলীয় অপটিক্যাল প্রভাব।
এই বলয় দেখা যায় যখন আকাশে সিরাস (Cirrus) বা সিরোস্ট্রেটাস (Cirrostratus) নামক পাতলা, সাদা, ফেদার-সদৃশ মেঘ থাকে। এই মেঘগুলো সাধারণত ২০,০০০ ফুট বা তারও বেশি উচ্চতায় গঠিত হয়, যেখানে তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের অনেক নিচে। এই মেঘের মধ্যে থাকে কোটি কোটি ক্ষুদ্র, স্বচ্ছ, ষড়ভুজাকৃতির বরফ কণা। এগুলো সূর্যের আলোকে অনেকটা প্রিজমের মতো বেঁকিয়ে দেয়।
যখন সূর্যের আলো এসব বরফ কণার মধ্যে দিয়ে যায়, তখন আলো প্রতিসরণ ও প্রতিফলনের মাধ্যমে ২২ ডিগ্রি কোণে বেঁকে যায়। ফলে একজন দর্শকের চোখে মনে হয় সূর্যকে ঘিরে একটি গোলাকার রঙিন বলয় গঠিত হয়েছে। বরফ কণাগুলো আকাশে এলোমেলোভাবে ভেসে থাকলেও, তাদের ভেতর দিয়ে বেঁকে আসা আলোকরশ্মিগুলো ঠিক ২২ ডিগ্রি কোণে আমাদের চোখে এসে পড়ে, ফলে দেখা যায় সম্পূর্ণ গোল একটি বলয়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের উচ্চ স্তরের মেঘ প্রায়ই কোনো নিম্নচাপ বা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়। তাই অনেক সময় “সান হ্যালো” দেখে অভিজ্ঞ মানুষজন বলেন, “বৃষ্টি আসতে পারে।”
প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্যের পেছনে যেমন আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, তেমনি এটি মানুষকে প্রকৃতির রহস্য ও সৌন্দর্য সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

