

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু (শুল্কায়নের জন্য নির্ধারিত সরকারি মূল্য) বৃদ্ধির প্রতিবাদে টানা ১০ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থার কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে পুরোপুরি স্থবিরতা নেমে এসেছে। এক সময়ের কর্মব্যস্ত বন্দরটি এখন কোলাহলমুক্ত এবং পাথরবাহী ট্রাকের আনাগোনা না থাকায় চারদিকে প্রায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, সেইসব হাজারো শ্রমিক কাজ না পেয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন পার করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতি টন পাথর সর্বোচ্চ ১৩ ডলার অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্যে আমদানি করে আসছিলেন। মূলত এই মূল্যের ওপর ভিত্তি করেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতীয় কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু টন প্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ১৫ ডলার নির্ধারণ করেছে।
আমদানিকারকদের দাবি, আমদানিকৃত পাথরের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশই নিম্নমানের থাকে যা ব্যবসায়িক কোনো কাজে আসে না। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি ২ ডলার বাড়িয়ে শুল্কায়ন মূল্য পরিশোধ করে পাথর আমদানি করলে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
আরিশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলমগীর জুয়েল জানান, লোকসান দিয়ে ব্যবসায়ীরা পাথর আনতে ইচ্ছুক নন এবং এই বর্ধিত ভ্যালু প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আমদানি কার্যক্রমে ফিরবেন না।
পাথর আমদানিকারক সাঈদি ইসলাম জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৩ ডলারের বিপরীতে ঋণপত্র বা এলসি সম্পন্ন করেছেন, এ অবস্থায় ভারতের পক্ষ থেকে বাড়তি মূল্য দাবি করায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
আমদানি বন্ধের এই নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়েছে বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের ওপর। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পাথর লোড-আনলোডের কাজ করা শ্রমিক মোঃ হযরত আলী তার দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে বলেন, তারা দিন আনেন দিন খান, কিন্তু গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্দরে কোনো ট্রাক না আসায় তাদের আয় একবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে জমানো টাকা ফুরিয়ে আসছে এবং এভাবে আর কয়েক দিন চললে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আরেক শ্রমিক মোঃ হানিফ জানান, বন্দরটি মূলত পাথর আমদানির ওপর ভিত্তি করেই চলে এবং পাথর না এলে তাদের আর কোনো কাজ থাকে না। সারাদিন বন্দরের শেডের নিচে অলস বসে থেকে দিন শেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের, যা তাদের মতো খেটেখাওয়া মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মাইনুল ইসলাম বলেন, গত ১০ দিন ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শুল্কায়ন মূল্যের এই জটিলতা সমাধান না হলে বন্দরের রাজস্ব আদায়ে যেমন ধস নামবে, তেমনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

