

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় এক বিধবা নারীকে গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার দেবরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী তিন সন্তানের জননী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর শাহরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযোগটি দায়ের করা হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন।
ঘটনাটি উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিরবিরি গ্রামের আছিয়ারারগো বাড়িতে ঘটে। অভিযুক্ত শাহরাজ উদ্দিন ওই বাড়ির ছায়েদুল হকের ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ভুক্তভোগীর স্বামী মারা যান। এরপর থেকে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে দেবর শাহরাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন সময় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ির মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ জুন রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী তার সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ঘরের দরজার ছিটকিনি ভেঙে প্রবেশ করে গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তার পোশাক ছিঁড়ে দুই দফায় ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে জোরপূর্বক তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে। এবং বিষয়টি কাউকে জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
পরদিন ১৭ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবারও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে আগের ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে তাকে পুনরায় ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর বাড়ির কয়েকজনকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্ত তাকে মারধর করে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি তাকে বাড়ি থেকে বের হতেও দেওয়া হয়নি। পরে ২২ জুন কৌশলে এক আত্মীয়ের সহায়তায় উপজেলা সদরে গিয়ে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেন।
তিনি আরও জানান, তার বড় মেয়ে স্থানীয় আকবরিয়া মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেয়েটিকে তার সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার জন্য ২১ জুন থেকে শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ২৪ জুন মেয়েটি গোপনে তার নানার বাড়িতে চলে আসে। ওই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্তের মা সুফিয়া বেগম দুইজন লোক নিয়ে সেখানে গিয়ে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী তার নিজের এবং তিন সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহরাজ উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মা সুফিয়া বেগম মোবাইল ফোনে বলেন, "আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে প্রশাসন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিক।"
হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, "ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

