

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা-সাহিত্য উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন ও ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটরিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিয়েটিভ আর্টস, ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (আইসিএএলডিআরসি) লিঙ্গুইস্টিকস ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (মহাপরিচালক) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের আন্তর্জাতিক সৃজনশীল ও একাডেমিক সমন্বয় বাংলাদেশের মেধা ও সৃজনশীলতাকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল মাজিদ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নেছার ইউ আহমেদ।
‘ইমপ্যাক্ট অব ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার অন ইনরিচিং মাইন্ডস অ্যান্ড ইন্সপায়ারিং লাইভস’ শীর্ষক এই সেমিনারে কি-নোট বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রফেসর ড. নেছার ইউ আহমেদ এবং চীনের ভাষা শিক্ষক লিউ ওয়েনলি।
কি-নোট বক্তব্যে প্রফেসর ড. নেছার ইউ আহমেদ বলেন, ‘ভাষা মানুষের জীবন, অনুভূতি, ভালোবাসা, বেদনা ও স্বপ্নের প্রতিফলন।
বিপ্লব, শাসন কিংবা আন্তরিকতার প্রকাশ—সবকিছুই ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ক্রিয়েটিভিটির মধ্য দিয়ে হৃদয়ে যে সৃষ্টির জন্ম হয়, ভাষাই তা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। এই ভাষাই আমাদের পরিচয়, উৎকর্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।’
সেমিনারে লিউ ওয়েনলি বাংলা ভাষায় গান পরিবেশন করে বাংলা ও চীনা ভাষার অন্তর্মিল এবং দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকরভাবে উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইসিএএলডিআরসির মহাসচিব প্রফেসর লুৎফর রহমান জয় বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী ও সৃজনশীল মানুষদের একত্র করে একটি বৈশ্বিক গবেষণা ও সৃজনশীল প্ল্যাটফরম গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
সেমিনার ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের ভাষা, সাহিত্য, গবেষণা, কৃষি, শিক্ষা, দর্শন, পারফরমিং আর্টস ও সৃজনশীল শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৫০ জন গুণীকে সম্মাননা ও ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশের চিত্রনায়ক আমান রেজা বলেন, ‘এই ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের সিনেমা ও পারফর্মিং আর্টসকে বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।’
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় গানগুলোর গীতিকার ও কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে সম্মাননা পেয়ে এর গুরুত্ব অসীম বলে মত প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম সম্মাননা ও ফেলোশিপ গ্রহণ করে বলেন, ‘এই সেমিনার প্রবাসী ও দেশীয় বাংলাদেশিদের একত্র করে বৈশ্বিক উন্নয়নে যুক্ত করার একটি শক্তিশালী উদ্যোগ।
বক্তারা বলেন, ভাষা মানুষকে কেবল কথা বলতে শেখায় না, বরং চিন্তা করতে শেখায়। ভাষার সঠিক ব্যবহার সমাজে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলে। তারা বলেন, ‘ভাষা হারিয়ে গেলে হারিয়ে যায় একটি জাতির স্মৃতি ও আত্মপরিচয়।’
এবারের আয়োজনে বিভিন্ন শাখায় সম্মানিতদের মেডেল, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ফেলোশিপপ্রাপ্তদের মধ্যে কবি ও সাহিত্যিকদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য, যাঁদের সৃজনশীল লেখালেখি ও অবদান মূল্যায়নের মাধ্যমে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এই ফেলোশিপের মাধ্যমে পুরস্কারপ্রাপ্তরা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ লাভ করবেন।

