

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: গার্মেন্টসে রাত-দিন পরিশ্রমের টাকায় চার বছর ধরে চালিয়েছেন প্রেমিকের পড়ালেখা ও সব খরচ। আশা ছিল সুদিনের, বাঁধতে চেয়েছিলেন ভালোবাসার ঘর। কিন্তু গোপনে বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় সেই স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে যায়। বিচ্ছেদের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতারণার বিচার ও নিজের অধিকারের দাবিতে প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন রমনা ইউনিয়নের বাসিন্দা এক তরুণী।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়াবাড়ী এলাকায়। অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম শফিউল ইসলাম শাহিন। সে ওই এলাকার আ.হাকিম মিস্ত্রির ছেলে।
সরেজমিন শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত শাহিনের গেটে বোরকা পরিহিতা এক তরুণী বাড়ীতে প্রবেশের চেষ্টায় দাড়িয়ে আছেন। তাকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভীড় দেখা গেছে।
অনশনরত তরুণীর দাবি, ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করে তিনি চার বছর ধরে শাহিনের পড়াশোনা ও অন্যান্য ব্যয় বহন করেন। পরে পরিবারের অজান্তে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের তিন মাস পর ডাকযোগে তালাকনামা পান তিনি। তার দাবি, তালাকনামা পাওয়ার পরও কিছুদিন তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক চলছিল। এ সময় তাকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তরুণীর ভাষ্য, তালাকের বিষয়ে স্বামীর কাছে জানতে চাইলে তিনি আত্মগোপন করেন। পরে স্বামীর খোঁজে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই তিনি বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।
অনশনরত তরুণী বলেন, ‘আমি গার্মেন্টসে রাত-দিন পরিশ্রম করে চার বছর ওর পড়াশোনা ও সব খরচ চালিয়েছি। বিশ্বাস ছিল আমাদের সুন্দর একটি সংসার হবে। কিন্তু বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই আমাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার ও আমার প্রাপ্য মর্যাদা চাই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে উঠব না।’
খবর পেয়ে তার বাবা-মাও ঘটনাস্থলে আসেন। তারা মেয়ের ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
স্থানীয় মো.রঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে এসে দেখি, এক তরুণী স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের জন্য গেটের সামনে অবস্থান করছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তাকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এর আগে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শফিউল ইসলাম শাহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।’
চিলমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

