

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। তবে জেলার পরিস্থিতি রয়েছে স্বাভাবিক। তবে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মিছিল ও কেক কেটেছে ওই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোন ধরনের নাশকতা ঘটানোর চেষ্ঠা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেলা শহর ঘুরে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জেলা জুড়ে নাশকতা ঘটনা পারে এমন আশংকায় গোপালগঞ্জে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। সোমবার রাতে দুইজন অফিসার'সহ ১৭১ জন সেনা সদস্য গোপালগঞ্জে পৌঁছায়। তবে সকাল থেকে সেনাবাহিনীকে মাঠে দেখা না গেলেও দুপুরের পর জেলা জুড়ে সেনাবাহিনীর টহল দেখা যায়। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বভাবিক রাখতে জেলা জুড়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কেও ছিল আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে করা হয়েছে তল্লাশী।
তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি গ্রাম এলার সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে তারা কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন। আর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে কাশিয়ানী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজিব মুন্সিসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
অপরদিকে, নানা আশংকা থাকলে জেলার পরিস্থিতি রয়েছে স্বাভাবিক। সকাল থেকেই জেলার রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারে ছিল সাধারণ মানুষের উপস্থিত, চলেছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ছিল স্বাভাবিক। শহরের সড়কগুলোতে অন্যান্য দিনের মত যানচলাচল ছিল স্বাভাবিক।
গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহ জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আয়়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোন ধরনের মিছিল মিটিং ও নাশকতার সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হলে তা সাথে সাথেই কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এখন পযর্ন্ত জেলায় কোন ধরনের অপ্রীকর ঘটনা ঘটেনি। জেলাজুড়ে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো: আরিফ-উজ-জামান বলেন, জেলার পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা তাদের মত করে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন। এখন পযর্ন্ত জেলায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দিনভর টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

