

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে ওই যুবককে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিয়ের দাবি জানাতে গিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় প্রেমিক, তাঁর বাবা-মা, ভাই ও এক আত্মীয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গত সোমবার ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন। মামলায় উপজেলার সাভারের হলপাড়া এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে মো. চপল (২২), তাঁর ভাই মো. সবুজ (২০), বাবা আক্তার হোসেন (৫০), মা মুক্তা আক্তার (৪২) এবং পশ্চিম ছনকা এলাকার রফিকুল ইসলাম (৪২)-কে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় এম বোরহান উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় দেড় বছর আগে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে চপলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই কিশোরীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন চপল। এ সময় চপলের ছোট ভাই সবুজ বাইরে থেকে সহযোগিতা করতেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৯ এপ্রিল উপজেলা সাভার উত্তরপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে চপল ওই কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এ সময় ওই আত্মীয় এসে দেখে ফেললে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান চপল। পরে বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হয়। কিন্তু বিয়ের ব্যবস্থা না করে চপলকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তাঁর পরিবার। কোরবানির ঈদের পর তাঁকে ছনকা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে খালাতো বোনের সঙ্গে বিয়ের আলোচনা শুরু করা হয়।
এ অবস্থায় গত ১৭ জুন দুপুরে কিশোরী চপলের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবি জানান। এ সময় চপলের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর গলা চেপে ধরা হয় এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে তা অস্বীকার করায় তাঁরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

